নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পথচলায় আজ এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জাতি। বিচারব্যবস্থার পবিত্রতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে—চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এক সময়ের বিতর্কিত এই ব্যক্তি যিনি এক কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর মামলার আইনজীবী এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত আজ রাষ্ট্রের সংবেদনশীল পদে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, এমন অতীতসম্পন্ন ব্যক্তি কীভাবে দেশের বিচার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হলেন?
*অবৈধ নিয়োগ ও নৈতিক অধঃপতন*
তাজুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নৈতিকতা যাচাইয়ের প্রথাগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কেবল রাজনৈতিক আনুগত্য ও স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর প্রভাবেই এই নিয়োগ হয়েছে—এমন অভিযোগ আজ সর্বমহলে আলোচিত। একজন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অতীতসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর কেন্দ্রে বসানো মানে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।
*শেখ হাসিনাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা*
সম্প্রতি তাজুল ইসলাম প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা দেখে মনে হচ্ছে, তিনি আদালতের আগেই রায় ঘোষণা করে ফেলছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ভুয়া ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা সাজানো হচ্ছে, তার আগাম রায় ঘোষণা করা কোনো নিরপেক্ষ প্রসিকিউটরের কাজ নয়—এটি স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন।
জনগণ এখন প্রশ্ন করছে—যখন বিচার প্রক্রিয়ার আগেই একজন প্রসিকিউটর রায় ঘোষণা করেন, তখন সেই বিচারের নিরপেক্ষতা কোথায়? এমন কর্মকাণ্ড শুধু ন্যায়বিচারের মর্যাদাকেই হেয় করছে না, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
* জাতির বিবেকের প্রশ্ন*
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আইনজীবী হিসেবে যিনি একসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তিনিই আজ রাষ্ট্রীয় পদে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন এ দৃশ্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের যে মূল মূল্যবোধ ন্যায়, সত্য ও মানবতা তা আজ তারই শত্রুদের হাতে অপমানিত হচ্ছে।
আজ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত এক সুরে উচ্চারিত হচ্ছে “ন্যায়বিচার চাই, অন্যায় বরদাস্ত নয়।” বঙ্গবন্ধুর কোটি কোটি সৈনিক আজ জেগে উঠেছে তাজুলের মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দোসরদের বিরুদ্ধে। যে ন্যায়বিচার শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই ন্যায়বিচারকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র জনগণ আর সহ্য করবে না।
বিচারব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির প্রতিহিংসা বা বিদেশি স্বার্থের হাতিয়ার হতে পারে না। চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নিয়োগ ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের আইনি কাঠামো, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
ন্যায়বিচারের নামে অন্যায় নয় বাংলাদেশ আজ এক কণ্ঠে বলছে, রুখে দাঁড়াও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দোসরদের বিরুদ্ধে, রক্ষা করো বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।