“মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক ছাড়া একতরফা ডাকসু নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ” — ছাত্রদের ক্ষোভ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ফের বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যান্য সংগঠন এবং মতাদর্শগতভাবে ভিন্নমতাবলম্বীদের বাদ করে একতরফাভাবে ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন করছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। তারা এই উদ্যোগকে ‘দেশবিরোধী চক্রান্ত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন,
“ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক ছাড়া একতরফা ডাকসু নির্বাচন করছে দেশবিরোধীরা। এর পেছনে সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য আছে — যাতে ভিন্নমতের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আসতে না পারে।”

তাদের দাবি, প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধি বিভিন্ন সংগঠনকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে শুধু ডাকসুর গণতান্ত্রিক চরিত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’ বলতে শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে বোঝানো হলে তা ইতিহাস বিকৃতি এবং বিভাজনের পথ তৈরি করে।

একজন সাবেক ডাকসু নেতা বলেন,
“ডাকসু ছিল মতাদর্শগত বৈচিত্র্যের প্রতীক। আজ সেটাকে একমুখী করে ফেলা হচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।”

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ চাইছেন, অবিলম্বে একটি অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হোক।

 

বিশ্লেষণ::
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যদি সকল পক্ষের ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হয়, তবে তা শুধু ছাত্র রাজনীতির প্রতি আস্থা কমাবে না, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের পথেও প্রশ্ন তৈরি করবে।