নিউজ ডেস্ক ::
যশোরের মনিরামপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক পরিবারের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনায় অবশেষে প্রাণ গেল ভ্যানচালক মিন্টু হোসেনের (৪০)। বিএনপির নেতা ছাব্বির হোসেন ওরফে বড় ছাব্বিরের নেতৃত্বেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিন্টু। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মিন্টু উপজেলার হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তার দুই ভাই সেন্টু ও পিকুল বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে সেন্টুর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহত মিন্টুর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ছোট সাব্বির ও ফারুক নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে মূল আসামি বড় সাব্বির পলাতক রয়েছে তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত,
নিহত মিন্টুর বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, প্রায় দুই বছর আগে তার ছেলে সেন্টুর ভ্যান চুরি হলে স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিম সহায়তা হিসেবে তাদের পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তখন স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন—এ টাকা ফেরত দিতে হবে না। কিন্তু গত এক মাস ধরে সাব্বির সেই টাকা ফেরত চেয়ে আসছিল। তারা সাব্বিরকে কাউন্সিলরকে সঙ্গে আনার শর্ত দিলেও সে কখনো তা মানেনি।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারও চায়ের দোকানে গিয়ে টাকা দাবি করে সাব্বির। টাকা না পেয়ে হুমকি-ধমকি দেয়। প্রতিবাদ করায় সাব্বির তার ৫–৬ জন সহযোগী নিয়ে তিন ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় পরিবারের পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মনিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান জানান, নিহত মিন্টুর মা চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে ছোট সাব্বির ও ফারুক গ্রেপ্তার হয়েছে। বড় সাব্বিরকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় মনিরামপুর পৌর বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জড়িত থাকায় ও গঠনায় বিএনপির নেতারা যুক্ত থাকায় পৌর বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির সহ এদের দল থেকে বহিষ্কার করে জেলা বিএনপি।।