যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় টনপ্রতি ৮০ ডলার বেশি দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কিনছে। এর ফলে এক লাখ টনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার লোপাট বা কমিশনের অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার গম যেখানে টনপ্রতি ২২৬ থেকে ২৩১ ডলারে পাওয়া যায়, সেখানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গম কিনছে ৩০৮ ডলারে। এই বিষয়টি সরকারের স্বচ্ছতা ও আমদানি নীতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ৪ লাখ ৪০ হাজার টন গম আমদানির চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৭ হাজার টনের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি বছরের শুরুতে খাদ্য অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই চুক্তি করা হয়।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের ওপর শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৮.২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং আমদানি করে ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ইউনূস সরকারের নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছরে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজার রক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্র বড় বাণিজ্য অংশীদার, তাই তাদের কিছু সুবিধা দেওয়া যৌক্তিক।” তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে গম কিনে সরকারের পদক্ষেপ জনগণের অর্থের অপচয় করছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর নয়।

বিশ্ববাজারে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে ‘ব্রেড বাস্কেট’ বলা হলেও, সচিবের যুক্তি—যুক্তরাষ্ট্রের গমে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং মান উন্নত। তাছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ অনিশ্চিত।

ইউনূস সরকারের সাম্প্রতিক আমদানি নীতি বোয়িং বিমান, এলএনজি, তুলা ও সয়াবিনসহ অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিবর্তে আমদানি নির্ভরতা আরও বাড়াবে।