নিউজ ডেস্ক :: যে দেশটির অবদানে বাংলাদেশ স্বাধীনতার আলো দেখেছিল, সেই ভারতবর্ষের দূতাবাসে হামলা কেবল একটি কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর আঘাত নয় এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় স্মৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত দিনগুলো ভুলে যাওয়া যতটা সহজ মনে হয়, ইতিহাস ততটাই নির্মমভাবে ভুলের মূল্য আদায় করে। যারা সেই ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়, তারা নিজের শেকড় কেটে ফেলছে।
“পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে” এই প্রবাদ আজ নতুন করে প্রাসঙ্গিক। অল্প ক্ষমতা, ক্ষণস্থায়ী দাপট আর বিকৃত জাতীয়তাবাদের আড়ালে যারা স্বাধীনতার ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা ভুলে যায় ইতিহাস কখনো নীরব থাকে না। আজকের এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী মানসিকতার প্রকাশ।
এই আঘাত শুধু ভৌত নয়, এটি স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক আক্রমণ। যারা মনে করে বলপ্রয়োগ, উসকানি বা কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের মাধ্যমে জাতির দিকনির্দেশ বদলানো যাবে, তারা মারাত্মক ভুল করছে। স্বাধীনতা কোনো অনুগ্রহ ছিল না—এটি অর্জিত হয়েছে রক্ত, ত্যাগ এবং আন্তর্জাতিক নৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো যারা একসময় স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি, তাদের উত্তরসূরিরাই আজ নতুন মুখোশ পরে সামনে এসেছে। তারা স্বাধীন দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, অথচ প্রকাশ্যে স্বাধীনতার ইতিহাসকে অস্বীকার করে। এরা স্বাধীন দেশের শত্রু, এরা স্বাধীনতা ভোগী জনগণের শত্রু। দীর্ঘদিন ঘাপটি মেরে থাকা এই শক্তিগুলো আজ সামান্য সুযোগ পেয়ে নিজেদের আসল চেহারা প্রকাশ করছে।
কিন্তু ইতিহাস বলে স্বাধীনতার অমর আত্মা কখনো পরাজিত হয় না। তরুণ প্রজন্ম জানে, অন্যায়ের বিপরীতে নীরব থাকা মানে অন্যায়কে শক্তিশালী করা। তাই আজ প্রয়োজন ক্ষোভ নয়, সচেতন প্রতিরোধ উগ্রতার নয়, যুক্তির; সহিংসতার নয়, আইন ও জনমতের শক্তির।
স্বাধীনতা কেবল অতীত নয় এটি প্রতিদিন রক্ষা করার দায়িত্ব। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই হোক আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। বাস্তবতাও স্পষ্ট ভারতবিরোধী রাজনীতি, অর্থনীতি বা কূটনীতি এই দেশে কখনো টেকসই হয়নি। তাই যুগের পর যুগ এ ধরনের প্রচেষ্টা ক্ষমতার বাইরে থেকে গেছে, ভবিষ্যতেও ব্যতিক্রম হবে না।