নিউজ ডেস্ক :: ঢাকার আকাশ আজ ভারী শুধু ধোঁয়া বা দূষণে নয়, বরং ভয় আর আতঙ্কে। কথিত “ইনকিলাব মঞ্চ”-এর নেতা ওসমান হাদী ৩০০ সশস্ত্র অনুসারী নিয়ে রাজধানীর রাজপথে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে— এমন অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ওসমান হাদীর দলে রয়েছে ২০০ জন সাবেক বিডিআর সদস্য, যারা চাকরিচ্যুত হওয়ার পর এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাদের হাতে আছে ১২০টি বন্দুক, ৮০টি পিস্তল এবং আরও নানা ধরনের আধুনিক অস্ত্র— চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, এমনকি স্বয়ংক্রিয় রাইফেলও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও রাজনৈতিক তদবিরে তারা এখন একটি অঘোষিত “আন্ডারওয়ার্ল্ড” শক্তি হিসেবে মাথা তুলেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— এই অস্ত্রধারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকাশ্যে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং স্থানীয় পর্যায়ে শোনা যাচ্ছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ তাদের “নিরাপত্তা” দিচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে হয়তো প্রশাসনও নীরব দর্শকের ভূমিকায়। প্রশ্ন উঠছে— রাজধানীর মাঝখানে এমন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী যদি এভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
ওসমান হাদীর সহযোগীরা আজ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার মালিক। ফুটপাতের দখল, অবৈধ পার্কিং, বাজার চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে প্রভাবশালী মহলে লেনদেন— সবখানেই তাদের হাত। এই অর্থনীতি গড়ে উঠছে সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো রুজি-রোজগারের উপর দাঁড়িয়ে। যারা ভ্যান চালিয়ে বা দোকান বসিয়ে সংসার চালান, তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০–২০০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। প্রতিরোধ করলে হামলা, মামলা কিংবা গুমের হুমকি।
যখন কোনো অপরাধচক্র আইনের ঊর্ধ্বে চলে যায়, তখন সেটি শুধু অপরাধ নয়— রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সত্যিই এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কে জানে (যা জানা না-থাকার সুযোগ খুবই কম), তাহলে তাদের নীরবতা অনেক বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। রাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অপরাধীদের ছায়া খোঁজে, তাহলে তা গণতন্ত্র বা ন্যায়বিচারের জন্য এক অশনিসংকেত।
ওসমান হাদীর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তখনই বেড়ে ওঠে, যখন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়। তাই শুধু অভিযান চালানো নয়— প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গোয়েন্দা সমন্বয় ও স্বচ্ছ তদন্ত। চাকরিচ্যুত প্রশিক্ষিত সদস্যদেরও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে তারা অপরাধে না জড়ায়।
ঢাকা শহর আজ যেখানে প্রতিদিন নতুন উচ্চ ভবন গড়ে উঠছে, সেখানে একই সঙ্গে বেড়ে উঠছে ভয় আর অপরাধের পাহাড়। যদি এখনই ওসমান হাদীর অস্ত্র সাম্রাজ্য ভেঙে না দেওয়া হয়, তাহলে একদিন এই রাজধানীই তার বন্দুকের আওতায় বন্দি হয়ে পড়বে।
রাষ্ট্রের উচিত এখনই ব্যবস্থা নেওয়া কারণ নীরবতা মানে শুধু সহায়তা নয়, আত্মসমর্পণও।