নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও দেখা দিচ্ছে প্রতিশোধের ছায়া। সম্প্রতি বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, চরমোনাই, এনসিপি ও এবি পার্টির নেতারা একজোট হয়ে ৩০০ জন সেনা কর্মকর্তার একটি তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে খুন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা আনার প্রস্তুতি চলছে—যার আইনি কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন। তালিকায় র্যাব থেকে ফেরত আসা কর্মকর্তা, বিজিবি, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর সাবেক সদস্যরাও রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কি সত্যিই ন্যায়বিচারের প্রয়াস, নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধের নীলনকশা?
বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রতিশোধমূলক রাজনীতি নতুন নয়। অতীতেও দেখা গেছে, যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা পরবর্তীতে অভিযুক্ত হয়েছেন রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে। এবারও সেই একই চিত্র ফুটে উঠছে—যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অফিসার। তাদেরকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে চিহ্নিত করে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা চলছে বলেও বিশ্লেষকদের মত।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং সেনা কমান্ডের মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগও হতে পারে। যে বাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, তাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ন্যায়বিচার মানে কেবল শাস্তি নয়; বরং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। যদি কেউ অপরাধে জড়িত থাকে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে—কিন্তু সেটা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক প্রক্রিয়ায়। আইন যদি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ন্যায়বিচারের ধারণাই ধ্বংস হবে, এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি জনআস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
আজ যারা তালিকা করছে, তারা যদি কাল ক্ষমতায় আসে, তখন কি নিজেরাই একই প্রতিহিংসার শিকার হবে না? ইতিহাস দেখিয়েছে, প্রতিশোধের রাজনীতি কখনোই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে পারে না।
এই “৩০০ কর্মকর্তার তালিকা” তাই শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—এটি বাংলাদেশের ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য এক গভীর পরীক্ষা।