নিউজ ডেস্ক :: ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার প্রাক্তন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে। এই প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঘটনা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (ICC)-এর নজরে আনা হয়েছে। লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারসের স্টিভেন পাওলস KC আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ICC প্রসিকিউটরের কাছে একটি আর্টিকেল ১৫ কমিউনিকেশন দাখিল করেছেন। কমিউনিকেশনে অনুরোধ করা হয়েছে যে, হত্যাকাণ্ড, কারাবাস এবং নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর তদন্ত শুরু করা হোক।
বাংলাদেশ ২০১০ সালে রোম স্ট্যাটিউট স্বাক্ষর এবং কার্যকর করেছে। কমিউনিকেশনে বলা হয়েছে যে, এসব অপরাধ যথেষ্ট গুরুতর, কিন্তু বাংলাদেশে এগুলো কার্যকরভাবে তদন্ত বা বিচার করা হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা দমনহীন অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। অভিযোগ অনুসারে, জুলাই ২০২৪ থেকে ৪০০ জন আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছে, যাদের অনেককে পিটুনি বা লিঞ্চিং-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও, কারাগারে ২৫ জন আওয়ামী লীগের নেতা মারা গেছেন, যাদের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
কমিউনিকেশন আরও উল্লেখ করেছে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সীমিতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও অযৌক্তিক অভিযোগে গ্রেপ্তার ও কারাবাসের শিকার হতে হয়েছে। এতে রাজনীতিবিদ, বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং এমনকি অভিনেতা ও গায়করা অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী প্রশাসন “ডেভিল হান্ট” অপারেশন চালু করে, যা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। মাত্র ১২ দিনে প্রায় ১৮,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৪ অক্টোবর ২০২৪-এ অন্তর্বর্তী প্রশাসন একটি ইমিউনিটি অর্ডার জারি করে। এতে বলা হয় যে, ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো আইনি শাস্তি হবে না। একপক্ষীয় এই ক্ষমা প্রদান কেবল অপরাধীদের রক্ষা করে না, বরং রাষ্ট্রের পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
কমিউনিকেশনটি উল্লেখ করেছে যে, এই অপরাধের তদন্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় প্রতিশোধমূলক অপরাধ একটি গুরুতর সমসাময়িক সমস্যা। এই অপরাধগুলো ICC-এর অধিকারভুক্ত এবং এগুলো দমন করা ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সঠিক সুযোগ হলো ICC প্রসিকিউটরের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।