রাসুল (সা.)-এর আদর্শ বিকৃতির পথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ইসলামের ইতিহাসে এমন বহু আন্দোলন দেখা গেছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী এমন এক সংগঠন, যার প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মৌদূদী ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করেও নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শকে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিকৃত করেছিলেন। আজ এই দলটি শুধু রাজনৈতিক নয়, আদর্শিকভাবেও ইসলামের মৌলিক নীতির বিপরীতে অবস্থান করছে—যা অনেক আলেমের মতে, নবীর দুশমনিরই রূপ।

*মৌদূদী ও তাঁর চিন্তার উত্থান*

আবুল আ’লা মৌদূদী (১৯০৩–১৯৭৯) ব্রিটিশ ভারতের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলম ও তর্কে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের ধারণা দেন। কিন্তু তাঁর লেখায় ইসলামকে আধ্যাত্মিক ও মানবিক আদর্শ থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক মতবাদে রূপান্তর করা হয়।
“ইসলামী রাষ্ট্র”, “খিলাফত ও মুলকিয়াত”, এবং “তাফহীমুল কুরআন”—এইসব গ্রন্থে তিনি নবী করিম (সা.)-এর জীবন ও নেতৃত্বকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তা এক রাজনৈতিক বিপ্লবের প্রক্রিয়া, আধ্যাত্মিক দাওয়াত নয়।

এই ব্যাখ্যা ইসলামী চিন্তায় এক নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে, যেখানে নবীর দাওয়াতের মূল লক্ষ্য—মানব হৃদয়ে ঈমান ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা তাকে ছাপিয়ে যায় ক্ষমতা দখলের রাজনীতি।

*নবী ও সাহাবিদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষা*

মৌদূদীর “খিলাফত ও মুলকিয়াত” বইটি সবচেয়ে বিতর্কিত। এতে তিনি সাহাবায়ে কিরামের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। আলেমসমাজের মতে, তাঁর ভাষা ইসলামী শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে।

তিনি কিছু স্থানে নবী করিম (সা.)-এর রাষ্ট্র পরিচালনাকে “রাজনৈতিক প্রক্রিয়া” হিসেবে তুলনা করেন, যা নবীর ঐশী প্রজ্ঞার অবমূল্যায়ন। অনেক আলেম এই বক্তব্যকে “রাসুল অবমাননা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

*আলেম সমাজের ফতোয়া ও প্রতিক্রিয়া*

দারুল উলুম দেওবন্দ, মক্কা-মদিনার ওলামা বোর্ড, ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমগণ মৌদূদীর মতবাদকে ইসলামী আকীদার পরিপন্থী ঘোষণা করেন।

একাধিক ফতোয়ায় বলা হয়, তাঁর বক্তব্য নবী ও সাহাবাদের মর্যাদাকে খাটো করে।

পাকিস্তান ও ভারতের অনেক শীর্ষ আলেম তাঁকে “বিদআতী ও গোমরাহ” (বিভ্রান্ত) আখ্যা দেন।

বাংলাদেশের অনেক প্রথাগত ইসলামী চিন্তাবিদও মত দেন—জামায়াতে ইসলামী মৌদূদীর চিন্তার ধারক হিসেবে নবীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত, বরং নবীর দাওয়াতকে রাজনৈতিক ছলে বিকৃত করছে।

*জামায়াতের আজকের রূপ*

আজকের জামায়াতে ইসলামী সেই মৌদূদীর তত্ত্বের উত্তরাধিকারী। তাদের বক্তব্যে ইসলামী ন্যায়বিচারের চেয়ে দলীয় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক আধিপত্যের গুরুত্ব বেশি। ইসলামকে তারা একটি রাষ্ট্রনির্ভর মতবাদে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে, অথচ ইসলাম প্রথমেই ব্যক্তির আত্মার সংস্কার ও নৈতিক বিপ্লবের শিক্ষা দেয়।

এইভাবে নবীর দাওয়াতকে বিকৃত করে জামায়াত আজ এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তাদের কর্মকাণ্ড ইসলামকে নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থকে সেবা করছে।

ইসলামের নাম নিয়ে নবীর আদর্শের বিকৃতি করা নবীর দুশমনিরই সমান। আবুল আ’লা মৌদূদীর চিন্তাধারা সেই বিকৃতির সূচনা করে, যা আজ জামায়াতে ইসলামী নামের সংগঠনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

নবীর (সা.) আদর্শকে রাজনীতির সোপানে নামিয়ে আনা, তাঁর মহান চরিত্র ও সাহাবিদের ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা এগুলোই প্রমাণ করে, জামায়াতে ইসলামী ইসলামের নয়, বরং নবীর আদর্শের বিরুদ্ধপক্ষ।