লস্কর-ই-ত্যাইবা বাংলাদেশের ছায়া যুদ্ধ শুরু করেছে, উলফা ঘাঁটি থেকে আসাম হামলা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার সূত্রপাত নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ সীমান্ত। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি হামলাটি পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশের ভেতরে সক্রিয় একটি ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটি থেকে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কথিত “লস্কর-ই-ত্যাইবা বাংলাদেশ শাখার” প্রধান হারুন ইজহার।

*সীমান্তের ওপারে ছায়াযুদ্ধের প্রস্তুতি*

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত হারুন ইজহার গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উগ্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার নেতৃত্বে উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (ULFA)-এর মধ্যে একটি অঘোষিত সমঝোতা গড়ে ওঠে।
এই সমঝোতার আওতায় উলফার পুরনো ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে অস্ত্র, অর্থ ও জনবল সরবরাহের পথ তৈরি হয়। সূত্র মতে, উলফা ঘাঁটিগুলো হয়ে আসাম সীমান্তে লস্কর সদস্যদের গোপন তৎপরতা ক্রমশ বেড়ে ওঠে।

*ধুবরিতে হামলা ও নতুন আতঙ্ক*

ভারতীয় সেনা রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই সোনাহাট ও মেঘালয় সীমান্তে অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়।
অবশেষে, গত সপ্তাহে আসামের ধুবরিতে সেনা টহল দলের ওপর আকস্মিক হামলায় চার জওয়ান নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়। ভারতীয় তদন্তকারীরা হামলাটিকে “উগ্র ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির যৌথ অভিযান” হিসেবে বিবেচনা করছেন।

*ঢাকার অবস্থান ও কূটনৈতিক যোগাযোগ*

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন দেশের ভেতরে কোনো বিদেশি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। যারা সীমান্ত অতিক্রম করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে হামলার খবর প্রকাশের পর থেকেই দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, বিশেষত কুড়িগ্রাম, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে।

*আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ*

বিশ্লেষকদের মতে, লস্কর-ই-ত্যাইবা ও উলফার সম্ভাব্য যোগাযোগ দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির পুনরায় সক্রিয় হওয়া—দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে “ছায়া যুদ্ধ”-এর আশঙ্কা তৈরি করছে।
যদি এসব তথ্য সত্য হয়, তবে এটি কেবল দুই দেশের নয়, গোটা বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যের জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে উঠবে।