নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের কাহিনি যখন রচিত হয়, তাতে প্রধান ভূমিকা অনস্বীকার্যভাবে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাত, কাপড়, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে অভিপ্রায় তিনি ধারণ করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা গেছে। দারিদ্র্যহার হ্রাস, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো, এবং মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ—এসব ক্ষেত্রেই তার সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ বড় প্রকল্পগুলো শুধু কৌশলগত নয়; এগুলো জাতির আত্মবিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
তবে প্রতিটি রাষ্ট্র পরিচালনায় সমান্তরালভাবে চ্যালেঞ্জও উপস্থিত থাকেই। কোভিড-১৯ মহামারী আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল; বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স ও শিল্পখাতেও প্রতিকূল প্রভাব পড়েছিল। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে দেশের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ দেখা দেয়। এসব বৈশ্বিক ঘটনার ফলে উন্নয়নের গতিতে সাময়িক ধীরগতি আসা শিক্ষণীয় যে কোনও দেশে সিস্টেমগুলোর স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক ঝাঁকুনি থেকেও রক্ষা করতে নীতিগত নমনীয়তা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রসারিত হয়েছে। বৃদ্ধভাতা, বিধবা-অসহায়দের ভাতা, সাক্ষরতা-ভিত্তিক স্কুলচলার ব্যবস্থা—এসবই বহু পরিবারকে নিয়মিত সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, গার্মেন্টস খাতের প্রসার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি সমাজের পরিবর্তনের ত্বরান্বিত করেছে। এ কারণে বেসামরিক জীবনে জনগণের একটি অংশের মধ্যে দৃঢ় সমর্থন তৈরি হয়েছে; তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে গতিশীলতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখেন।
অপরদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রতিষ্ঠানগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সংবাদমাধ্যম-সমাজের ভেতর বিতর্কও বিদ্যমান। যে কোনো প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো কিভাবে দেশের অর্জনগুলো সংরক্ষণ করা হবে এবং যেখানে ত্রুটি বা আচরণগত ব্যত্যয় আছে, সেগুলো শান্তিপূর্ণ, আইনগত ও সংলাপমুখীভাবে সমাধান করা হবে। সমালোচনা ও সরকারী ত্রুটির প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাস্থ্যকর উপাদান; কিন্তু এই প্রক্রিয়াগুলো যাতে আইনসম্মত ও সহিষ্ণু পদ্ধতিতেই পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গত কিছু সময়ে রাজনৈতিক বর্ণনায় “ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্য বজায় আছে নাকি তা ঝুঁকির সম্মুখীন”—এ নিয়ে নানা বিবেচনা শোনা যায়। জনগণ চিন্তা করে যে, অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ক্ষমতার অস্থায়ী সংকট বা প্রশাসনিক ব্যাঘাত অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতি, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, এবং রাজনৈতিক সংলাপের চর্চা জরুরি। জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখাই যে কোনো নেতা বা সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন, তবু অপরিহার্য কাজ।
এক বিন্দু স্পষ্ট: উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কোনো একক নীতির সফলতা বা ব্যর্থতাকে মিলিয়ে পুরো ইতিহাস লেখা হয় না — বরং ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সমাজের সমবেত প্রতিফলনই নির্ধারণ করে একটি দেশের গতিপথ। শেখ হাসিনার জেলা-পর্যায়ের প্রকল্প থেকে কেন্দ্রীয় অবকাঠামো-উপকরণ পর্যন্ত বহু উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিয়েছে তবু এগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ও বৃদ্ধির পথে রেখে তাকে ঘিরে উত্থাপিত সমালোচনাগুলোও উপেক্ষা করা যাবে না। সমালোচনা থাকলে সেটি উন্মুক্ত পরিবেশে যাচাই-বাছাই করে, আইনি ও সাংবিধানিক উপায়ে সমাধান করাই জাতির মঙ্গলের পথ।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে—এই প্রশ্নের উত্তর শেষে জনগণের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল। জনজীবনের সুষম উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সম্ভাবনার সমতা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক চুক্তি, আইন-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ অপরিহার্য। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অর্জনগুলো এসেছে সেগুলোকে বজায় রেখে, ভিন্নমত ও সংলাপকে স্থান দিয়ে এগোতেই হবে। দেশের মানুষই শেষ কথা বলবে—কিভাবে, কখন ও কার নেতৃত্বে সেসব অর্জনকে আরও এগিয়ে নেয়া হবে, সেটাই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের মূল কেলেঙ্কারি।