ষড়যন্ত্রের আগুনে জ্বলছে গণতন্ত্র, ১৩ নভেম্বর আওয়ামীলীগের শান্তিপূর্ন কর্মসূচী বানচালের অপচেষ্টা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতি আজ অদ্ভুত বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনঅংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করা এখন যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়—এ এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শান্তি, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে রাজনীতি করে আসছে। সহিংসতা নয়, তারা বিশ্বাস করে জনগণের শক্তিতে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৩ নভেম্বর ঢাকায় আয়োজিত “১০ লাখ বেলুন উড়ানোর” কর্মসূচী ছিল এক অনন্য আয়োজন—যেখানে বেলুনের মতোই উড়বে স্বাধীনতার চেতনা, উড়বে ঐক্য ও শান্তির বার্তা। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ চেয়েছিল জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতে, যেন বাংলাদেশ আবারও ফিরে পায় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক গতি।

কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে বিএনপি-জামাত-এনসিপি জোট ও তাদের পৃষ্ঠপোষক অবৈধ ইউনুস সরকার সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীকে বানচাল করার নোংরা খেলায় নেমেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, এবং ভয়ভীতি ছড়ানোর ঘটনাগুলো স্পষ্ট প্রমাণ—এটি একটি পরিকল্পিত নাটক। উদ্দেশ্য একটাই: নিরীহ আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপর দোষ চাপিয়ে গ্রেফতার করা, এবং জনগণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এসব সহিংসতার নেপথ্যে আছে এক ষড়যন্ত্রমূলক চিত্রনাট্য—যাতে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীকে “অশান্ত” হিসেবে প্রচার করা যায়। অথচ সত্য হলো, বিএনপি-জামাতের গোপন কার্যালয়ে বসেই এই অগ্নিসন্ত্রাসের পরিকল্পনা হচ্ছে, যার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে এনসিপি’র ছত্রছায়ায় থাকা একটি সংঘবদ্ধ দল।

ইউনুস সরকারের প্রশাসনিক আশ্রয়ে এই অপকৌশল আজ রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে উল্টো নিরীহ নাগরিকদের হয়রানি করছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে বাধা, অন্যদিকে দুষ্কৃতিকারীদের প্রতি নীরব সমর্থন—এ যেন প্রশাসনকে পরিণত করা হয়েছে রাজনৈতিক অস্ত্রে।

১৩ নভেম্বরের কর্মসূচী কেবল একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। এই দিনে আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে আওয়াজ তুলবে—অবৈধ ইউনুস সরকারের সব অবৈধ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে; অবৈধ আদালতের বিচার স্থগিত করতে হবে; ইউনুসের গঠিত জঙ্গী বাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশী প্রভাবমুক্তভাবে দেশের ভুখণ্ড ও স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকারও এই কর্মসূচীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

রাজধানীতে দশ লাখ বেলুন উড়িয়ে জনগণ জানাবে—বাংলাদেশ কোনো বিদেশী শক্তির হাতে বিক্রি হবে না, কোনো অবৈধ সরকারের ভয় দেখানোতেও থামবে না। কিন্তু সেই উৎসবমুখর কর্মসূচীকে বানচাল করতে ইউনুস সরকারের ষড়যন্ত্র এখন প্রকাশ্য। ভয়ভীতি ও দমননীতি দিয়ে তারা বিশ্বাস করে, জনগণের কণ্ঠরোধ করা যাবে।

কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে—যে শক্তি সত্য ও জনগণের পাশে থাকে, তাকে দমিয়ে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী আসলে একটি প্রতিরোধের ঘোষণা—মিথ্যা, অপপ্রচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

বাংলার আকাশে যখন ১৩ নভেম্বর উড়বে দশ লাখ বেলুন, তখন সেটি হবে স্বাধীনতার, সাহসের ও জনগণের জাগরণের প্রতীক।
আর তখনই প্রমাণ হবে—ষড়যন্ত্র যতই গভীর হোক, গণতন্ত্রের আলো নিভে না; বরং আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে ওঠে সময়ের সত্যে।