নিউজ ডেস্ক :: ষোলো বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন দিগন্তে পৌঁছেছিল—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপ্লব, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক অগ্রগতি সবখানেই ছিল উন্নয়নের দৃশ্যমান ছোঁয়া। দারিদ্র্যের হার কমে এসেছিল, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছিল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ছিল আগের চেয়ে অনেক উজ্জ্বল।
দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যারা পরবর্তীতে নেতৃত্বে আসবেন, তারা উন্নয়নের এই অর্জনকে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী করবেন। কিন্তু সেই আশার প্রতিফলন ঘটেনি।
আজ বাস্তবতা এক ভিন্ন চিত্র আঁকছে।
ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশ যেন আবার অস্থিরতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। হত্যা, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি সবকিছু যেন ফিরে এসেছে অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি হয়ে।
মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—এটাই কি সেই পরিবর্তনের ফল, যার জন্য তারা এত বছর অপেক্ষা করেছিল?
এক সময়ের আশা এখন ভয় ও হতাশায় পরিণত হয়েছে।
আইনের শাসন দুর্বল, প্রশাসনের মধ্যে অনিশ্চয়তা, আর সাধারণ মানুষ দিন দিন হারাচ্ছে নিরাপত্তাবোধ। এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি জাতীয় বিবেকেরও এক গভীর পরীক্ষা।
যে রাষ্ট্র একদিন উন্নয়নের প্রতীক ছিল, আজ সেখানে ভয় ও বিভাজনের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে।
তবুও মানুষের স্মৃতি বড় শক্তিশালী।
তারা ভুলে যায়নি কে যুদ্ধ করে, কে গড়ে, আর কে ভাঙে।
আজ সাধারণ মানুষ বলছে,
“শেখ হাসিনা ছিল বলেই বাংলাদেশ টিকে ছিল।”
তার মধ্যে ছিল দেশপ্রেম, দৃঢ়তা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি ছিলেন উন্নয়নের রূপকার, জনগণের সেবক, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার প্রতীক।
আজ সেই শূন্যতা মানুষ গভীরভাবে টের পাচ্ছে।
কারণ, নেতৃত্বের অভাব শুধু প্রশাসনিক সংকট নয়,এটি জাতীয় আত্মার অভাব।
এখন জাতির সামনে একটাই প্রশ্ন আমরা কি আবার সেই প্রগতি, সেই দৃঢ় নেতৃত্বের পথে ফিরব?
না কি প্রতিহিংসা ও অরাজকতার এই চক্রেই হারিয়ে যাব?
দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই উত্তরটির ওপর।
কারণ, ষোলো বছরের সেই স্বপ্ন আজও কোটি মানুষের মনে জেগে আছে—
দেশপ্রেম, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার এক অনন্ত প্রত্যাশা হয়ে।