নিউজ ডেস্ক :: ২০২৫ সালের সবচেয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক পর্ব নিঃসন্দেহে তথাকথিত “জুলাই গেজেট”। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নয়, বরং একটি গভীর ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা, যার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে আজও সংবিধান বহাল থাকলে যা সত্য এবং বৈধ তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই বৈধ, আর ড. ইউনুসের সরকার অবৈধ, বেআইনি এবং রাষ্ট্রবিরোধী।
২০২৪ সালের নির্বাচনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। কোনো রাষ্ট্রীয় সংকট, আদালতের রায় বা সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়াই ড. মুহাম্মদ ইউনুস নামে এক ব্যক্তি তিন মাসের জন্য ‘অস্থায়ী সরকার’-এর নামে শপথ নেন, যা ছিল একটি ছদ্মবেশী ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত। এখন সেই তিন মাস পার হয়ে দশ মাস চলছে—যার মধ্যে শেষ সাত মাস তিনি একেবারেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন।
তথাকথিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ ছিল আসলে এক সংঘবদ্ধ চক্রান্ত, যেখানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নস্যাৎ করতে হামলে পড়ে। এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধ’ বলা, ‘যোদ্ধা’ বলা, বা ‘গণআন্দোলন’ হিসেবে গেজেটে স্বীকৃতি দেওয়া ইতিহাসকে বিকৃত করার নিকৃষ্ট প্রয়াস।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো বিএনপির ভূমিকা। তারা আজও স্পষ্ট করেনি, তারা এই গেজেট স্বীকার করে কি না। যদি বিএনপি এই গেজেটে স্বাক্ষর করে বা সমর্থন জানায়, তাহলে তারা প্রমাণ করবে তারা একটি মেরুদণ্ডহীন, আদর্শহীন, সুবিধাবাদী দল, যারা দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান ও জনগণের রায়ের বিপক্ষে দাঁড়াতেও দ্বিধা করে না। ইতিহাস বিএনপিকে ক্ষমা করবে না। বরং, একদিন বিএনপিকেই ‘জুলাই সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে।
এখন প্রশ্ন—বিএনপি কি সত্যিই স্বাধীনতা চায়? তারা কি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী? নাকি তারা শুধু চক্রান্ত, গুজব ও বিদেশি শক্তির সহায়তায় ক্ষমতায় যেতে চায়?
জনগণ আর বোকা নয়। জাতি আজ জেগে উঠছে, ইতিহাসের সত্য তুলে ধরছে। যারা ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা আজ ২০২৫-এ ‘জুলাই বিপ্লব’ নামক মুখোশ পরে ফিরে এসেছে। কিন্তু তারা সফল হবে না। কারণ দেশের মানুষ জানে সংবিধান বহাল থাকলে শেখ হাসিনার সরকারই বৈধ, ইউনুস সরকার অবৈধ; এবং “জুলাই যোদ্ধা” আসলে স্বাধীনতাবিরোধী সন্ত্রাসী।