নিউজ ডেস্ক :: সাংবাদিকতা সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও মানুষের অধিকার রক্ষাই এ পেশার মূল লক্ষ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। কোটালীপাড়ার সাম্প্রতিক ঘটনা এই বিপজ্জনক প্রবণতার ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালের কণ্ঠ ও এনটিভির স্থানীয় প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বুলু দীর্ঘদিন ধরে একদল সহযোগীকে নিয়ে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি চালাচ্ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই সিন্ডিকেট নতুন রূপে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নিত।
জনমনে এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি বুলু ও তার সহযোগী মনিরুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে জনগণ সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখায়। স্থানীয়রা তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন। পরে আদালতের নির্দেশে বুলুকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
এই ঘটনা শুধু দুই-একজন ব্যক্তির পতন নয়—এটি আমাদের সমাজে সাংবাদিকতার নৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। প্রকৃত সাংবাদিকরা আজ জনসম্মুখে সন্দেহের মুখে পড়েছেন, অথচ পেশার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের আস্থা অর্জন ও ভয়ভীতিহীন সত্য প্রকাশ।
এখন প্রয়োজন গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক, প্রেসক্লাব ও প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা। যারা সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে অপরাধ করছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা আবশ্যক। একই সঙ্গে যোগ্য ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকতা যেন ভয় বা লোভের হাতিয়ার না হয়ে, সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এটাই সময়ের দাবি।