সিলেটে দ্বৈত নাগরিক মালেকের মনোনয়ন বৈধ, নীরব প্রশাসন, উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: সিলেট–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেকের মনোনয়ন বহাল থাকা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় এটি একটি গভীরভাবে সন্দেহজনক রাষ্ট্রীয় ঘটনা। একজন লন্ডন প্রবাসী ও লন্ডনের নাগরিক এই তথ্য জেনেশুনেই জেলা প্রশাসক মনোনয়ন বাতিল করেননি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক একটি “ভুল”, নাকি এর পেছনে রয়েছে অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী কোনো প্রভাব?
রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে—মনোনয়ন বৈধ রাখতে ১০ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ। অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা, তা তদন্তসাপেক্ষ। কিন্তু এত বড় অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের নিশ্চুপ থাকা কি স্বাভাবিক? এই নীরবতা কি নির্দোষতার প্রমাণ, নাকি সম্ভাব্য অপরাধ ঢাকার কৌশল সে প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন দ্বৈত নাগরিক কেউ জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারেন না। এখানে ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই, রাজনৈতিক মতভেদেরও প্রশ্ন নেই। তাহলে এম এ মালেকের ক্ষেত্রে আইন কেন অকার্যকর? ডিসি কি সংবিধানের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছেন, নাকি সংবিধান এখন ক্ষমতাবানদের জন্য ঐচ্ছিক দলিল?
এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নির্বাচন এখন আর জনগণের ভোটের প্রতিযোগিতা নয়; এটি প্রভাব, অর্থ ও বিদেশি পাসপোর্টের খেলায় পরিণত হয়েছে। লন্ডনের নাগরিকত্ব থাকলে বাধা নেই, কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার থাকলেই আপত্তি! প্রশাসন যেন আর রাষ্ট্রের পাহারাদার নয়, বরং বিশেষ দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা বেষ্টনী।
ডিসি সব জেনেও যদি নীরব থাকেন, তবে সেটি কোনো নিরপেক্ষতা নয় এটি দায়িত্বহীনতা এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। সংবিধানকে গলা টিপে ধরে বলা হচ্ছে “চুপ থাক, নির্বাচন চলছে।” এমন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, এমন প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ, আর এই নীরবতা ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
আজ যদি প্রশাসনের আশীর্বাদে একজন বিদেশি নাগরিক সংসদে ঢোকার পথ পায়, তবে কাল এই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব টিকে থাকবে শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায়।
মনোনয়ন বাতিল হয়নি বলেই প্রশ্ন শেষ নয়,বরং এখান থেকেই প্রশ্নের শুরু।