দিনপত্র ডেস্ক :: সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই শেষে রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এমএ মালিক দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফেরেন। এরপর বিএনপি তাকে সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এমএ মালিক দাবি করেন, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্বশিক্ষিত’ এবং পেশা ‘কিছুই না’ বলে উল্লেখ করেন। তবে সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার কাছে রয়েছে বাংলাদেশি ২ লাখ টাকা, ৭১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার এবং ৬ হাজার ৭১০ ব্রিটিশ পাউন্ড। আয়ের উৎস হিসেবে বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভাড়া থেকে বছরে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বিদেশে নির্ভরশীলদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার পাউন্ড আয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার নামে ঢাকার বনানীতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং গ্রামে যৌথ মালিকানার একটি বাড়ি রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণ সাধারণত একজন সম্পূর্ণ দেশীয় নাগরিক ও দেশের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করা এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কিত প্রার্থীদের মনোনয়ন স্বাভাবিকভাবেই জনআস্থাকে দুর্বল করে।
একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক ত্যাগ, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বদলে বিদেশে অবস্থানরত বিত্তবান ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিলে তা দলের ভাবমূর্তি ও জনসমর্থনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।