সীমান্তে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সমর্থন: বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায়

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাখাইনভিত্তিক জাতিগত বিপ্লবী সংগঠন ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, সীমান্তে রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে মদদ দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইউএলএর সশস্ত্র শাখা আরাকান আর্মি (এএ) অভিযোগ করে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কিছু কর্মকর্তা সীমান্তে সক্রিয় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-কে গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন।

এএ সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সীমান্তের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলছে না, বরং বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে।

হুমকির মুখে সীমান্ত নিরাপত্তা

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন অভিযোগ বাংলাদেশের জন্য এক বড় নিরাপত্তা হুমকি। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা উদ্বেগের কারণ হলেও, এবার সরাসরি বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে ঢাকার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

দায় অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতার ওপর

দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল অবস্থান ও অদক্ষ কূটনৈতিক নীতিই এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা কঠোর বার্তা না আসায় পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক চাপের শঙ্কা

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ তোলা হলে তা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আরও নড়বড়ে হয়ে পড়তে পারে।