নিউজ ডেস্ক :: রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক শর্ত হলো নাগরিকের নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা ব্যর্থ হলে উন্নয়ন, সংস্কার কিংবা নৈতিক বক্তৃতা সবই ফাঁপা শব্দে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণে জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নিজে গ্রহণ করছেন। সেই ঘোষণার পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। আজ প্রশ্ন একটাই এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়?
বাস্তবতা নির্মম ও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইউনুস সরকারের পুরো সময়জুড়ে দেশজুড়ে হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ব্যবসা-বাণিজ্য দখল ও সন্ত্রাস নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর কোথাও সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দায়িত্বশীলদের নীরবতা রাষ্ট্রকে কার্যত অসহায় করে তুলেছে।
নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে সমান্তরালে অর্থনীতিও গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হয়েছে। বাস্তব পদক্ষেপের বদলে ফাঁকা আশ্বাস আর অলংকারপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে দেশ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে পড়েছে, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। অনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই যুগল আঘাতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, সেটিই জনগণের বিশ্বাস ভাঙার মূল কারণ। মানুষ শুধু নিরাপত্তা চায়নি; চেয়েছে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি ও সত্যনিষ্ঠ নেতৃত্ব। কিন্তু এর পরিবর্তে তারা দেখেছে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর এক সংস্কৃতি, যেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু দায়িত্ব নেওয়া হয় না।
দেশ ও দেশের মানুষের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয় এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা। ইতিহাস ক্ষমতার মেয়াদ মনে রাখে না মনে রাখে কে দায়িত্ব পালন করেছে, আর কে করেনি। যারা নিরাপত্তার ভার নিয়েও জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের হিসাব ইতিহাস একদিন কঠোরভাবেই নেবে।
জনগণের ধৈর্য দুর্বলতা নয়। কিন্তু সেই ধৈর্যকে অবহেলা করলে, তার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে—ইতিহাস তার সাক্ষী।