সেনাবাহিনী এখন ক্ষমতার ঢাল,জনগণের আস্থা হ্রাস, রাষ্ট্রীয় অবক্ষয় ভয়ঙ্কর

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: অবৈধ এবং অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করার জন্য সেনাবাহিনীর নগ্ন হস্তক্ষেপ আজ দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। জনগণ artık সেনাবাহিনীকে রক্ষক নয়, শত্রু হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জের ঘটনায় সেনাবাহিনী কিছু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সহমর্মিতা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।
জনগণের দৃষ্টিতে এটি আর কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি স্পষ্ট বার্তা—সেনাবাহিনী এখন রাজনৈতিক আগ্রাসনের হাতিয়ার। অবৈধ নির্বাচন, যার প্রক্রিয়া জনগণ চায় না, বাস্তবিকভাবে সেনাবাহিনীর অস্ত্রের জোরে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে জনগণের সন্দেহই আস্থা হারানোর মূল কারণ।
সেনাবাহিনী যে একসময় জনগণের মর্যাদার প্রতীক ছিল, আজ তা প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক ক্ষমতা রক্ষার জন্য বাহিনী ব্যবহার করলে, সেই বাহিনীই জনগণের আস্থা হারানোতে দায়ী হয়। আস্থা ক্ষয় পেলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং সাধারণ মানুষ মনে করে যে আইন নেই, নিরাপত্তা নেই, আর ন্যায়বিচার কেবল শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
এখন প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি অস্ত্রের জোরেই টিকে থাকবে, নাকি জনগণের আস্থা ফেরাতে যথাযথ সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে? রাষ্ট্র টিকে থাকে জনগণের সম্মতিতে, বন্দুকের জোরে নয়। যদি জনগণ সেনাবাহিনীকে শত্রু মনে করতে থাকে, যদি নির্বাচন ও বিচার প্রক্রিয়া অবৈধ ও অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র কেবল একটি খালি কাঠামো হয়ে থাকবে—মানুষের মনে নয়।
আজও সময় আছে—স্বচ্ছ নির্বাচন, জবাবদিহি, এবং সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে আস্থা ফেরানো সম্ভব। নইলে আগামী প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্রের নৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি অনিশ্চিত হয়ে যাবে।