সেনাবাহিনী নিয়ে তদন্ত ঘোষণা, রাষ্ট্রীয় আস্থার পরীক্ষায় চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে তদন্ত করা হবে।

তাজুল ইসলামের এই বক্তব্য নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও সামরিক কাঠামোর প্রতি জনআস্থার পুনর্গঠনের এক বার্তা বহন করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, কুমিল্লা, সাভার ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলের জিওসি, ব্রিগেডিয়ার এবং ফিল্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম তদন্তের আওতায় আনা হবে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—এই তদন্ত শুধু মাঠপর্যায়ে সীমিত নয়; সেনা সদর দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এর আওতায় পড়বেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক, এনএসআই-এর ডিআইজি ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম।

তাজুল ইসলামের ভাষায়, “দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য এই তদন্ত অপরিহার্য। কেউ যদি দায়িত্বের অপব্যবহার করে থাকে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘোষণার পেছনে সরকারের গভীর কৌশলও থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নেতৃত্ব নিয়ে সরকারের ভেতরে অনাস্থা ও সন্দেহের আবহ তৈরি হয়েছে। ইউনুস সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল সেনা কাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এমন গুঞ্জনও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে।

চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের পদক্ষেপ তাই একদিকে যেমন ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে এটি সামরিক-নাগরিক সম্পর্কের ভারসাম্য পুনর্নির্মাণের এক সূক্ষ্ম পরীক্ষা। সরকার এই তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেটিই এখন জাতির কাছে বড় প্রশ্ন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে এই ঘোষণার পর সামরিক প্রশাসনে এক ধরনের নীরব আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রের শক্তি কেবল অস্ত্র বা পদে নয় তার বিশ্বাসযোগ্যতায়। সেই বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াতেই এখন বাংলাদেশ প্রবেশ করছে।

অনেকেই মনে করছেন আইনি জটিলতায় ফেলে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়োগ করা সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
খমতা খর্ব করে বাহিনী থেকে বিতাড়িত করতে আইসিটি আইনে আনার চেষ্টা করছে ইউনুস সরকার।