নিউজ ডেস্ক :: জুলাই সনদ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র গুঞ্জন—জামায়াত ও এনসিপি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিচ্ছেন। আলোচনায় এসেছে সেনাপ্রধান নিয়োগ, পদোন্নতি নীতি ও পদক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও সরকারের ইচ্ছায় সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান তৈরির কথাও শোনা যাচ্ছে। আরও বিস্ময়কর ধারণা—তিন বাহিনীর নেতৃত্ব নেবে নৌবাহিনী।
এমন প্রস্তাব শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর স্থিতি ও সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাদের শৃঙ্খলা ও মর্যাদার ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। কিন্তু যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেতৃত্ব ও কাঠামো পরিবর্তন করা হয়, তবে সেই ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যাবে।
ইতিহাস বলছে রাজনীতি যখনই সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করেছে, তখনই প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক পরীক্ষাগারে পরিণত করা মানে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থিতি নষ্ট করা।
সরকারের উচিত স্পষ্টভাবে জানানো যে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব বা কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন হবে না, কিংবা হলেও তা শুধুমাত্র পেশাগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে হবে।
জুলাই সনদ যদি সত্যিই জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হতে চায়, তবে প্রথম শর্ত হবে—রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। সেনাবাহিনী কোনো দলের নয়, এটি জাতির।
আশঙ্কাজনক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সেনা বাহিনীর ভেতর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পরিবর্তন করে জুলাই সনদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এমন পরিকল্পনা কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং জাতির চেতনার মূলভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।