স্বল্প অভিজ্ঞতায় ‘অধ্যাপক’ পরিচয়—জামায়াত নেতাদের পদবি অপব্যবহারে অসন্তোষ বাড়ছে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ডেস্ক নিউজ দিনপত্র :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি অস্বস্তিকর প্রবণতা ব্যাপকভাবে চোখে পড়ছে—বিশেষত জামায়াত-সংযুক্ত কিছু নেতার পরিচয়ে “অধ্যাপক” পদবির অকারণ, অযৌক্তিক ও অনৈতিক ব্যবহার। মাত্র তিন থেকে পাঁচ বছর কলেজে প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকার অভিজ্ঞতা থাকলেই অনেক নেতা নিজেদের নামের আগে অবলীলায় “অধ্যাপক” শব্দটি জুড়ে দেন। যেন কলেজে শিক্ষকতা করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়-সমমানের অধ্যাপক হয়ে যান।

জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারী মিয়া গোলাম পরওয়ার , অধ্যাপক দাবী করে লিখে থাকেন এরকম জামায়াতের অনেক নেতা ভুয়া অধ্যাপক দাবীদার।

এই আচরণ শুধু একাডেমিক কাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতাই নয়; বরং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার এক ধরনের সচেতন অপপ্রয়াস। রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে পদবির অপব্যবহার—এটি এখন সমাজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অধ্যাপক পদবি: দীর্ঘ পরিশ্রম ও পদোন্নতির শীর্ষ ধাপ

বাংলাদেশের শিক্ষা কাঠামো অনুযায়ী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকতার পদমর্যাদা সুস্পষ্ট:

1. প্রভাষক

2. সহকারী অধ্যাপক

3. সহযোগী অধ্যাপক

4. অধ্যাপক — যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ একাডেমিক পদ

 

অধ্যাপক পদটি কোনো সম্মানসূচক শব্দ নয়। এটি বহু বছরের গবেষণা, প্রকাশনা, শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক অবদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদনের সমন্বয়েই অর্জন করা সম্ভব। তাই মাত্র পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা বা কলেজ পর্যায়ে চাকরি দিয়ে কেউ অধ্যাপক হওয়ার দাবি করতে পারেন না—এটি প্রশাসনিকভাবে, একাডেমিকভাবে এবং নৈতিকভাবে ভুল।

তাহলে কেন কিছু নেতা নামের আগে ‘অধ্যাপক’ লিখছেন?

এ প্রবণতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে উঠে আসে কয়েকটি উদ্দেশ্য—

রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ভারী করা

শিক্ষিত ও নৈতিক নেতৃত্বের ইমেজ তৈরি করা

সমর্থকদের কাছে অতিরিক্ত সম্মান অর্জন

দলের অভ্যন্তরে প্রভাব বাড়ানো

অনেক জামায়াত-সংশ্লিষ্ট নেতা হয়তো স্বল্প সময় শিক্ষকতা করেছেন, কেউ কোনো পদোন্নতি পাননি, কেউ গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন না—তবুও রাজনৈতিক পরিচয়ের ওজন বাড়াতে তাঁরা এই উপাধি ব্যবহার করছেন। বাস্তবে এটি পদবির অপব্যবহার এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল।

এ ধরনের অপব্যবহার কেন চিন্তার বিষয়?

প্রকৃত অধ্যাপক ও একাডেমিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়

শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়

রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ তৈরি হয়

সমাজে ভুল ও অনৈতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়

অধ্যাপক পরিচয় ব্যবহার করার অধিকার কেবল তাঁদেরই, যাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং একাডেমিক কাঠামোর সব ধাপ অতিক্রম করেছেন।

স্বচ্ছতা ও সত্যনিষ্ঠ পরিচয়ের সংস্কৃতি জরুরি

রাজনীতি, শিক্ষা বা সমাজ—সব ক্ষেত্রেই পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে সত্য, নীতিনিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “অধ্যাপক” শব্দটি মর্যাদাপূর্ণ, গবেষণাভিত্তিক এবং অর্জিত একটি পদবী। রাজনৈতিক লাভের আশায় এর অপব্যবহার কেবল প্রতিষ্ঠানগত মূল্যবোধকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের শিক্ষা সংস্কৃতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষার জন্য, অধ্যাপক পদবির যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা ও নৈতিকতার চর্চা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।