স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের মুখোমুখি সেনাবাহিনী

লেখক: সৌরভ দাস,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: একজন সেনাসদস্যের শপথ কেবল অস্ত্র ধারণের অঙ্গীকার নয় এটি সংবিধান, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অটল থাকার প্রতিজ্ঞা। সীমান্তে পাহারা, দুর্যোগে উদ্ধার কিংবা আন্তর্জাতিক মিশনে দেশের পতাকা বহন সবকিছুর কেন্দ্রে থাকে একটি পরিচয় তিনি প্রজাতন্ত্রের সৈনিক। তাই সেনাবাহিনীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আঘাত লাগে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানে নয়, রাষ্ট্রের ভিতেই।
সেনাবাহিনীকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা হঠাৎ তৈরি হয়নি। স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গিবাদী চক্র বরাবরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে তাদের আদর্শ বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে। ইতিহাস স্পষ্ট পাকিস্তানি সামরিক পরাজয়ের পেছনে বাঙালি সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগ ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সেই কারণেই রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, হেয় করা বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা প্রাচীন কৌশল।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বাস্তব আশঙ্কা কাজ করে যদি কখনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতার কাছে পৌঁছায়, তারা সেনাবাহিনীকে পেশাদার ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী হিসেবে নয়, বরং বিভক্ত ও নিয়ন্ত্রিত শক্তি হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। উগ্রবাদী অনুপ্রবেশ, শৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা এসব ভয় মানুষের মনে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে উঠেছে।
আজকের উদ্বেগ কেবল বাইরের শত্রুর নয়। সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের প্রত্যাশা সবসময়ই উচ্চ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল, আস্থা দৃঢ়। কিন্তু যখন দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী দেশের সর্বত্র বিশৃঙ্খলার মোকাবিলা করতে পারছে না, অপরাধ দমন দৃঢ় নয়, তখন মানুষ হতাশ হয়। দুষ্টের দমন না হওয়া, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না থাকা, কিংবা আপসের ইঙ্গিত—এসবই আস্থার অবনতি ঘটায়।
সেনাসদস্যরা জানেন তাদের শক্তি ঘৃণায় নয়, শৃঙ্খলায় উত্তেজনায় নয়, দায়িত্বে। কিন্তু রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো—সেনাবাহিনীকে দৃঢ় নৈতিক ও সাংবিধানিক অবস্থানে দাঁড় করানো। কারণ সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কিন্তু স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকা তাদের নৈতিক বাধ্যবাধকতা।
আজকের সময়ের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য অবমাননা, কুরুচিপূর্ণ স্লোগান ও হুমকিমূলক বক্তব্য। রাস্তায় গালিগালাজ, ক্যান্টনমেন্ট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার এসবই একটি মর্যাদাশীল বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আঘাত করছে। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, এর সঙ্গে জঙ্গিবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত শক্তির উত্তরসূরিরা আজ প্রকাশ্যে সেনাবাহিনীকে অবমাননা করছে এটি স্বাধীনতাকামী জনগণ সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না।
শেষ পর্যন্ত পথ একটাই সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা, শৃঙ্খলা অটুট রাখা এবং আইনসম্মত কঠোরতায় রাষ্ট্রকে দৃঢ় করা। কারণ সেনাবাহিনী দৃঢ় থাকলে রাষ্ট্রও নিরাপদ থাকে, আস্থা ও সমর্থন অবিচল থাকে। এই সত্য আজও অস্বীকারযোগ্য নয়।