স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতি আজ অপরাধ,পঞ্চগড়ের শালিশে ছাত্রলীগের অপমান

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পর বাংলাদেশে এমন এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় আদর্শকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পঞ্চগড়ে আওয়ামী রাজনীতিতে যুক্ত তরুণদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা ছাত্রলীগ করে। এই অপরাধেই স্থানীয় বিএনপি-সমর্থিত গোষ্ঠী প্রকাশ্যে শালিশ বসিয়ে তাদের বিচার করেছে। বলা হয়েছে রাজনীতি করো না, বাড়িতে ফিরে যাও, চুপচাপ থাকো। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তরুণদের এমন অপমান এটাই কি সেই “নতুন বাংলাদেশ”, যার স্বপ্ন আমরা দেখিনি?

অবৈধ ইউনুস সরকারের ছত্রছায়ায় আজ গ্রামীণ সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পরাজিত শক্তি। যারা একদিন স্বাধীনতার পতাকা ছিঁড়ে দিয়েছিল, আজ তারাই সমাজের বিচারসভায় বসে মুক্তিকামী তরুণদের নৈতিকতার পাঠ দিচ্ছে। পঞ্চগড়ের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়ংকর বাস্তবতার প্রতীক। এক সময় যারা পাকিস্তানের দোসর ছিল, তারা আজ প্রশাসনের পেছনে, ইউনিয়নের নেতৃত্বে, এমনকি সামাজিক প্রভাবের আসনে বসে মুক্তিযুদ্ধের সন্তানদের অবজ্ঞা করছে নতুন করে।

ছাত্রলীগ যে সংগঠনটি একসময় দেশ গঠনের হাতিয়ার ছিল, আজ তাদের নাম উচ্চারণ করাও অনেক এলাকায় ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতা-বিরোধী গোষ্ঠী এখন যেন প্রতিশোধ নিচ্ছে ইতিহাসের। পঞ্চগড়ের সেই শালিশ সভা আসলে পুরো জাতির সামনে এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচন করেছে—স্বাধীনতার রাজনীতি আজ এই দেশে অপরাধ, আর স্বাধীনতা-বিরোধীরা সমাজের নিয়ন্ত্রক।

এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি সামাজিক বিপর্যয়েরও প্রতীক। যখন কোনো তরুণ তার মত প্রকাশের জন্য অপমানিত হয়, তখন সমাজের বিবেকও বন্দি হয়ে পড়ে। যারা এই অন্যায়ের সাক্ষী থেকেও নীরব থাকে, তারা অজান্তেই অত্যাচারীদের পক্ষে দাঁড়ায়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পাঠ্যবইয়ের পাতায় রয়ে যায়, বাস্তব জীবনে নিভে যায় তার দীপ্তি।

আজ সারা দেশে একটাই প্রশ্ন কেন এই নীরবতা? কেন এই ভয়? কেন স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের ঘরে ফিরতে হয় মাথা নিচু করে? যে তরুণরা একদিন শহীদের রক্তে ভেজা পতাকার তলে শপথ নিয়েছিল, তারা আজ সমাজে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, একঘরে। এই অন্যায়ের দায় শুধু বিএনপি-জামাতের নয়; এটি সেই রাষ্ট্রের দায়, যে রাষ্ট্র অন্যায়ের সামনে মাথা নত করে আছে।

বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি কে এই দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছিল, কে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল। অথচ আজ সেই পরাজিত শক্তিই সমাজের কর্তৃত্ব দখল করে ন্যায়ের ভাষাকে বিকৃত করছে। ইউনুস সরকারের প্রশাসনিক মদদে সেই অন্ধকার শক্তিই এখন গ্রামীণ জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে, যেন স্বাধীনতার চেতনাকে এক নিঃশব্দ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবু ইতিহাস চুপ করে থাকে না। একদিন এই জাতি অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙেছিল; আবারও তা পারবে। পঞ্চগড়ের ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতি হওয়া অপমান তাই ইতিহাসে থাকবে একটি প্রতিজ্ঞা হয়ে যে কোনো মূল্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াবে।

দেশব্যাপী আজ একটাই স্লোগান উঠছে চিহ্নিত স্বাধীনতা-বিরোধী ও তাদের দোসরদের বিচার করতে হবে। যারা অতীতে রক্ত ঝরিয়েছে, তারা আজও একই চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই হবে আগামী দিনের অঙ্গীকার।

পঞ্চগড়ের শালিশ সভা শুধু একটি গ্রামের নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। যদি এখনই ন্যায়, আদর্শ ও সাহসের পক্ষে দাঁড়ানো না যায়, তবে একদিন ইতিহাসে লেখা থাকবে স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতি এই দেশে একদিন অপরাধ হয়ে গিয়েছিল।