নিউজ ডেস্ক :: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের নির্বাচিত বৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয় — এমনই অভিযোগ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এমিলিয়া কাজী। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের মেটিকুলাস প্ল্যানে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে জামায়াতপন্থী জঙ্গি সন্ত্রাসীরা দেশব্যাপী মব সন্ত্রাস চালিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। ফলে পুরো দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।”
এমিলিয়া কাজী বলেন, তখন দেশের মানুষ ছিল শোকে স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ, হতবাক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। “কী হবে, কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মব সন্ত্রাসে সব শেষ হয়ে যাচ্ছিল,” — বলেন তিনি।
এই বিভীষিকাময় সময়ে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ— এবিএম সিরাজুল হোসেইন, কাজী মামুন, এম্বাসাডর হারুন আল রশিদ এবং নিরু কে নাহার — ইউটিউব ও ফেসবুকে তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করে ইউনুস গংয়ের ষড়যন্ত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। এমিলিয়া কাজীর ভাষায়, “তাঁরা তখন আমাদের কাছে আলোকবিন্দুর মতো। তাঁদের যুক্তিসঙ্গত কথা ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ দেখে মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পারে দেশটা খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে শেখ হাসিনাকে পরিকল্পিতভাবে সরানো হয়েছিল দেশটিকে পাকিস্তান বানানোর ও বিদেশি স্বার্থে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে।
তার মতে, তেরো মাসে অবৈধ জঙ্গী সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের চোখ খুলে গেছে। তরুণ প্রজন্ম এখন শেখ হাসিনার সরকারের সময়ের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রশংসা করছে।
এমিলিয়া কাজী বলেন, “আমার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করি, এখনকার তরুণরা কী ভাবে। সে বলে, এখন সবাই বোঝে— শেখ হাসিনার সময়ই দেশ ভালো ছিল, কেউ চায় না দেশটা পাকিস্তান হয়ে যাক।”
তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন। “আমাদের দল তরুণদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছাতে পারেনি। জামায়াত-শিবির সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধর্মের নামে তরুণদের ব্রেইনওয়াশ করেছে,” বলেন তিনি।
তবে আশার কথা হিসেবে এমিলিয়া কাজী বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজ এখন অনেক স্মার্ট ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত।
তার মতে, এবিএম সিরাজুল হোসেইন, কাজী মামুন, এম্বাসাডর হারুন আল রশিদ ও নিরু কে নাহার যদি পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ, রাজাকার-আলবদর বাহিনীর অপরাধ নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন, তাহলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও দৃঢ় হবে।
শেষে তিনি বলেন —
“একটি স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে স্বাধীনতা গৌরব, সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক।।