স্বাধীনতা বিরোধী জামাত, জাতির ইতিহাস ও মর্যাদার শত্রু

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

অনলাইন ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পরিচিত। ড. ইউনুসের নেতৃত্বে দলটি কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায় না; তারা নির্বাচনবর্জিত, স্বৈরাচারী ও স্বাধীনতা বিরোধী ক্ষমতা অর্জনের চক্রান্তে লিপ্ত। জামাতের কর্মকাণ্ড জাতির মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, সংবিধান এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি একেবারে অবমাননাকর ও ঘৃণাজনক।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জামাত মুক্তিযুদ্ধের নিধনমূলক পরিকল্পনা করছে এবং ১৬ ডিসেম্বরকে কালো দিবসে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়—এটি সরাসরি জাতির শত্রুতার প্রকাশ। যারা স্বাধীনতার ত্যাগীদের সম্মানকে তুচ্ছ করে দেখছে, তারা দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অত্যন্ত জঘন্য অবমাননা করছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জামাতের কেন্দ্রীয় নেতারা ধর্মকে নিজের দোসর হিসেবে ব্যবহার করে উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছেন। গত তিন মাসে অন্তত ৩০ জন নেতার এমন কর্মকাণ্ড দেশে ধর্মীয় বিভাজন, সামাজিক বিভ্রান্তি এবং সহিংসতা তৈরি করছে। ধর্মকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা—এটি নাগরিকদের প্রতি ঘৃণার একমাত্র প্রকাশ। এই দানবীয় আচরণ জাতির নৈতিকতাকে ধ্বংস করছে।

জামাতের কার্যক্রম প্রমাণ করছে, তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সংগঠিত অপরাধ, অপহরণ, এবং ভয় সৃষ্টি করছে। তারা টার্গেট করছে রাজনৈতিক কর্মী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী—কারণ তাদের পরিবারকে চাপিয়ে দেওয়া সহজ এবং মুক্তিপণ আদায় সম্ভব। এই সমস্ত কর্মকাণ্ড ঘৃণিত, ধ্বংসাত্মক ও দেশের বিপর্যয়ের প্রতীক।

রাষ্ট্রের দুর্বলতা তাদের কার্যক্রমকে আরও অপ্রতিরোধ্য করেছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, সীমিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা জামাতকে শক্তিশালী করেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও টেকনাফে তাদের অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে সমাজের উপর আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করছে।

দেশের নাগরিক ও রাষ্ট্রের জন্য এই অবস্থার অর্থ একটাই—জামাত শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বরং জাতির শত্রু, মুক্তিযুদ্ধের নিঃশ্বাস চুরি করে চলা অবমাননাকর শক্তি। তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ বিপন্ন হবে।

রাষ্ট্রের এবং সমাজের কর্তব্য হলো জামাতের এই কার্যক্রমকে প্রতিহত করা, তাদের স্বাধীনতা বিরোধী, ধর্ম অবমাননাকর ও ঘৃণাজনক কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য করা। একমাত্র কঠোর পদক্ষেপই জাতিকে মুক্তি দিতে পারে। যারা ধর্ম, ইতিহাস ও দেশের নৈতিকতা ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক লোভ পূরণ করছে, তাদের প্রতি জাতির ঘৃণা স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক।

আজকের বাংলাদেশে জামাত শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা জাতির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব এবং ধর্মের সঠিক মর্যাদার শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এবং জনসচেতনতা ছাড়া দেশ নিরাপদ হবে না।