স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাঘববোয়াল, পরিচালক প্রশাসন ডা. আবু হানিফের দুর্নীতির সাম্রাজ্য

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: স্বাস্থ্য খাত যেখানে থাকা উচিত ছিল সেবা ও সততার মিশ্রণ, সেখানে আজ ছায়া ফেলেছে দুর্নীতি ও প্রভাবের কালো রাজত্ব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবু হানিফ সেই অন্ধকার অধ্যায়ের এক প্রধান চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম, ঘুষ, ফাইল গায়েব ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। সূত্র বলছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। শোনাযায় তিনি এনসিপির এক নেতা যার বাড়ি উত্তর বঙ্গে তাকে খুসি রাখেন ঘুষের একটি অংশ ভাগ দিয়ে থাকেন এমন গুঞ্জন এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করিডোরে খোলামেলা আলোচনার বিষয়।

এই অর্থনৈতিক জাল তাকে করেছে আরও প্রভাবশালী, আরও বেপরোয়া। অভিযোগ রয়েছে, বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ কিংবা প্রকল্প অনুমোদন সব ক্ষেত্রেই এখন টাকার বিনিময়ে “স্বাক্ষর বিক্রি” হচ্ছে। ফাইল হারিয়ে যাওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক। ফলে প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তারা কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হোঁচট খাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন—“ডা. হানিফ এখন পুরো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক। তার ঘনিষ্ঠ চক্র ছাড়া কোনো কাজ হয় না। কথা না শুনলে বদলির ভয়।”

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের বড় বড় টেন্ডার ও সরঞ্জাম কেনাকাটায়ও তার প্রত্যক্ষ প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি সরকারি প্রকল্পে বাজেটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, কাগুজে কাজের নামে কোটি টাকার বিল, এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার তথ্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থার নজরে এসেছে।

স্বাস্থ্যসেবা যেখানে মানুষের জীবনরক্ষার প্রতীক, সেখানে এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা হয়ে উঠছেন পুরো ব্যবস্থার ক্যানসার। রাষ্ট্রীয় পদে থেকে জনগণের সেবার বদলে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে স্বাস্থ্য খাতের পুনর্গঠন শুধু কঠিন নয় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দেশবাসীর প্রত্যাশা, সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন দ্রুত এই অভিযোগগুলোর তদন্ত করবে এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে স্বাস্থ্য খাত আবারও ফিরে পায় আস্থা ও নৈতিকতার ভিত্তি।