স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির ছায়া, উপপরিচালক হানিফের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেখানে জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে আজ আস্থা ও সততার সংকট গভীর হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. হানিফ সরকারি দায়িত্বে থেকেও “টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না।” দীর্ঘদিন ধরে তার দপ্তরে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে, যদি না সুবিধা নিশ্চিত হয়।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আমলে তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ডা. হানিফ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর তিনি নিজেকে বিএনপি হিসেবে তুলে ধরেছেন বিএনপি ঘনিষ্ঠদের বেশি সুবিধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি গোপনে জামাত- এনসিপি বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন।

অবাক করার বিষয়, সম্প্রতি পরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরও ডা. হানিফ নিজেই উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে বহাল রয়েছেন, যা প্রশাসনিক রীতি বহির্ভূত। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ফাইল ও জনবল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তার হাতেই রয়ে গেছে।

সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন, জনবল নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত ফাইলের কাজে অনিয়ম, বিলম্ব এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

তিনি পদে থাকতে চান শুধু ক্ষমতার প্রয়োগের জন্য। কোনো প্রকল্প বা বদলি ফাইল ‘সুবিধা ছাড়া’ অগ্রসর হয় না। এতে অধিদপ্তরের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. হানিফের মতো কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ নিচ্ছেন। এ ধরনের সুবিধাবাদী আচরণ শুধু প্রশাসনিক সংস্কৃতিকেই কলুষিত করছে না, জনগণের আস্থাকেও ধ্বংস করছে।

জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন এমন অভিযোগ ওঠে, তখন প্রশ্ন জাগে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোথায়? দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন জরুরি, যাতে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে আবারও ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতা ফিরে আসে।