নিজস্ব প্রতিবেদন | আঞ্চলিক নিরাপত্তা
ভারত তার পূর্ব দিকের নিরাপত্তা বলয়কে ধাপে ধাপে কিন্তু দৃঢ় পরিকল্পনার মাধ্যমে শক্তিশালী করছে। স্থল ও সমুদ্র—দু’দিকেই একযোগে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি, যা স্পষ্টভাবে পূর্ব সীমান্তকে অগ্রাধিকারে রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি
Indian Navy পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরে একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এর মূল লক্ষ্য—
Bay of Bengal অঞ্চলে ভারতের নৌ উপস্থিতি বাড়ানো
সামুদ্রিক নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা জোরদার করা
কলকাতা–হলদিয়া অক্ষকে কৌশলগতভাবে আরও কার্যকর করা
এই ঘাঁটি পূর্ব উপকূলে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত নৌ মোতায়েন নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিলিগুড়ি করিডোরে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি
স্থলভাগেও প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। Siliguri Corridor ঘিরে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই করিডোর উত্তর-পূর্ব ভারতের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত।
উদ্দেশ্য—
উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহ নিরাপদ রাখা
যেকোনো সামরিক বা কৌশলগত ঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা করা
মিজোরামে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
একই সঙ্গে Mizoram রাজ্যে নতুন সেনা গঠন ও পাহাড়ি যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এতে—
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া
সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা
নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৌশলের বার্তা কী?
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কোনও তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কৌশল, যেখানে—
প্রতিরোধ (Deterrence)
উপস্থিতি (Presence)
দ্রুত জবাব (Rapid Response)
—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে
হলদিয়া থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ভারতের প্রস্তুতি স্পষ্ট করে বলছে—
পূর্ব দিক এখন ভারতের কৌশলগত অগ্রাধিকার,
আর সেই অগ্রাধিকার নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয় নয়াদিল্লি।