দিনপত্র ডেস্ক :
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’ এবং ‘ছোট ঘটনা’ বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মাত্র ১৮ দিনে ৬ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দাবি করছে।
রক্তঝরা সোমবার: নরসিংদী ও যশোরে জোড়া খুন
মির্জা ফখরুল যখন পরিস্থিতিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই সোমবার রাতে নরসিংদীর চরসিন্দুর বাজারে নিজের দোকানের ভেতর কুপিয়ে হত্যা করা হয় শরৎ মণি চক্রবর্তী (৪০) নামের এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে।
চাঞ্চল্যকরভাবে, মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই ফেসবুকে এক পোস্টে শরৎ লিখেছিলেন—
“আমার জন্মভিটা আজ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।”
যশোরে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি
একই দিনে যশোরের মনিরামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় রানা প্রতাপ বৈরাগী নামের এক হিন্দু বরফকল মালিক ও স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদককে।
বাইকে করে আসা তিন দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এর আগেও নিউ ইয়ার্স নাইটে খোকন দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
ভারতের দিকে আঙুল ফখরুলের
এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বাংলাদেশে সহিংসতা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর ভাষায়,
“মুসলিমরাও হত্যা ও গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।”
তিনি এ জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।
পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন,
মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ
মানবাধিকার কর্মী ও সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলোর মতে,
“যখন সংখ্যালঘুরা প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন উদাসীন মন্তব্য অপরাধীদের আরও সাহস জোগাবে।”
একদিকে স্বজন হারানোর কান্না, অন্যদিকে শীর্ষ নেতাদের ‘ছোট ঘটনা’ তত্ত্ব—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।