নিউজ ডেস্ক :: প্রশাসনের অভ্যন্তরে আবারও ঘুষের বিনিময়ে বদলি ও পদোন্নতির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ সরকারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে যা বর্তমানে প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী দপ্তর হিসেবে বিবেচিত।
বিভিন্ন সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, এই বদলি প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকার দফারফা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, বৃহস্পতিবার বদলি আদেশ জারি হলেও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার কথা সোমবারের মধ্যে।
তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির দায়িত্বে থাকায় এই পদটি সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব—বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত এমন অভিযোগও উঠেছে।
প্রশাসনের এক সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন,
যদি এ ধরনের আর্থিক লেনদেন সত্য হয়ে থাকে, তা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক নীতিকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেবে। এই অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি।”
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সরকারের উপদেষ্টা, এনসিপির নেতা ও কিছু ছাত্র সংগঠনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদবির–বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন। প্রশাসনের অভ্যন্তরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে রাষ্ট্র এখন শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে পঞ্চম সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ, যেখানে একসময় শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশ ২৭তম স্থানে নেমে এসেছিল। বিগত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ পাঁচবার “দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন” হয়েছিলযা এখন পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বারবার এমন অভিযোগ ওঠা প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করছে। যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বদলি নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রযন্ত্র তখনই শক্তিশালী থাকে, যখন প্রশাসন স্বচ্ছ, যোগ্য ও জবাবদিহিতার মধ্যে পরিচালিত হয়। কিন্তু যখন পদোন্নতি ও বদলি হয় টাকার বিনিময়ে, তখন রাষ্ট্র শুধু দুর্নীতির অন্ধকারে নয়, জাতির নৈতিক ভিত্তিও ভেঙে পড়ে।
জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রশাসনে যদি ঘুষই নিয়মে পরিণত হয় তাহলে সেটি গণতন্ত্র নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবসা।
এখন প্রয়োজন, দৃঢ় তদন্ত, আইনি পদক্ষেপ ও নৈতিক পুনর্গঠন। কারণ দুর্নীতি দমন কমিশন যদি নীরব থাকে, তবে জনগণের ক্ষোভই একদিন রাষ্ট্রের কাঠামোকে কাঁপিয়ে দেবে।