১৪০০ মৃত্যুর’ ভয়ংকর মিথ, মঞ্চে ইউনূস ও ভলকারের অপপ্রচার

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে “জুলাই আন্দোলন” এখন এক বিতর্কিত অধ্যায়। সেই আন্দোলনের সময়কার সহিংসতা, প্রাণহানি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশি–বিদেশি অঙ্গনে নানা মতভেদ চলছিল। এমন সময় আচমকা প্রকাশিত হয় এক তথাকথিত “জাতিসংঘ রিপোর্ট” যেখানে দাবি করা হয়, ওই আন্দোলনে ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন এবং রাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত। মুহূর্তেই রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

কিন্তু পরবর্তীকালে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ সত্য রিপোর্টটি আদৌ জাতিসংঘের ছিল না। এটি ছিল একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রণীত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দলিল। এর সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, রেজলিউশন বা বাজেট বরাদ্দের সম্পর্কই ছিল না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR)-এর প্রধান ভলকার তুর্ক নিজ উদ্যোগে এই “ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং রিপোর্ট” তৈরি করে সেটিকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল নথি হিসেবে প্রচার করেন। অথচ জাতিসংঘের নীতি অনুযায়ী, এ ধরনের রিপোর্ট প্রকাশের আগে হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের অনুমোদন, বাজেট ও নথিভুক্ত “UN Document Number” থাকা বাধ্যতামূলক—যা এই তথাকথিত রিপোর্টে ছিল না। অর্থাৎ, এটি ছিল একটি অফিসিয়াল কাগজের ছদ্মবেশে অপপ্রচারমূলক প্রচেষ্টা।

এখানেই শেষ নয়। একাধিক সূত্রে জানা যায়, সেই বিতর্কিত রিপোর্টে সহায়তা করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অভিযোগ রয়েছে, এটি ছিল ভলকার তুর্ক ও ইউনূসের যৌথভাবে প্রস্তুত করা একটি তথাকথিত রিপোর্ট, যার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করা। এতে বাস্তব তথ্য বিকৃত করে মৃত্যুর সংখ্যা ফুলিয়ে–ফাঁপিয়ে ১৪০০ দেখানো হয়। অথচ দেশের প্রধান পত্রিকা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের হিসাবে, নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৫০ থেকে ৮৩৪ জনের মধ্যে।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত কিছু “মৃত ব্যক্তিকে” পরবর্তীতে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে! এটি শুধু তথ্যের বিকৃতি নয়, বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার—যা পুরো নথিটিকেই অবিশ্বাস্য করে তোলে।

জাতিসংঘের মহাসচিব পরবর্তীতে স্পষ্ট করে জানান, ওই রিপোর্ট জাতিসংঘের অনুমোদিত নয় এবং কোনো রেজলিউশন বা আলোচনায় উপস্থাপিতও হয়নি। তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার দপ্তরের বাইরের কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল দলিল হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর ও অনৈতিক।

এটি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়—এটি ছিল জাতির সঙ্গে প্রতারণা। জাতিসংঘের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনআস্থা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এক গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আজ বাংলাদেশের জনগণ প্রশ্ন তুলছে ছকে বা কারা এই ভৌতিক রিপোর্টের পেছনে অর্থ ও প্রভাব জুগিয়েছিল? কী উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের নাম ভাঙিয়ে দেশের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করা হলো?

এই প্রহসনমূলক প্রচারণা অবিলম্বে তদন্তের দাবি রাখে। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতি আহ্বান এই ভুয়া রিপোর্টের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি গঠন করুন।

ইতিহাস সাক্ষী, মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে কেউ কখনও সত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
“জুলাই আন্দোলনের জাতিসংঘ রিপোর্ট” নামের এই অপপ্রচার আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় সত্যকে আড়াল করা যায় কিছুদিনের জন্য, কিন্তু চিরকাল নয়।