নিউজ ডেস্ক ::
ভূ-অখণ্ডতা রক্ষায় মাঠে নামার ডাক
সম্প্রতি কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ঘিরে এক বিস্তৃত অভিযোগ ও প্রচারণা দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন ড. ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গোপন ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করতে যাচ্ছে যার আওতায় সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু অংশ বিদেশি সামরিক বা অর্থনৈতিক ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হবে।
গোপন সমঝোতা ও অর্থবন্টনের অভিযোগ
বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, ইতোমধ্যে আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা সারক সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে চূড়ান্ত খসড়া চুক্তি পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ চুক্তির মোট নগদ মূল্য ৫ বিলিয়ন ডলার, যার অংশীদার হবেন
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস ও তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা,
বিএনপি–এর শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দীন আহমেদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস,
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব,
এবং এনসিপি’র প্রায় ২৫ জন নেতা।
অভিযোগে আরও বলা হচ্ছে, তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও চুক্তির অর্থ বণ্টনে অংশ পাবেন এবং এ কারণে তাঁরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয়দের উচ্ছেদ ও মানবিক আশঙ্কা
স্থানীয় সূত্রের দাবি, চুক্তি কার্যকর হলে কক্সবাজারের স্থায়ী বাসিন্দাদের ধীরে ধীরে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
তাদের অনেককেই পার্বত্য তিন জেলায় পুনর্বাসিত করা হতে পারে—যা স্থানীয়ভাবে “নতুন সেটেলমেন্ট প্রকল্প” নামে প্রচারিত হচ্ছে।
এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়বেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জনঅসন্তোষ
অভিযোগ-প্রচারণা ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও সাধারণ মানুষ “ভূখণ্ড অখণ্ড রাখতে মাঠে নামার” আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ মিছিল ও অনলাইন প্রচারণা চলছে।
অন্যদিকে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা জনমনে আরও উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেন্টমার্টিন ঘিরে এমন অভিযোগ প্রচারণা শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, দেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
যদি বিদেশি কোনো ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তবে তা
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব,
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য,
এবং পর্যটন ও মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ সবক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার ও প্রশাসনকে তথ্যভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
অন্যদিকে জনগণের উদ্বেগ নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
দেশ বিক্রির সাথে জড়িত বিশ্বাস ঘাতকদের বিচার চাই।