স্টাফ রিপোর্ট | অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি
৮ বছর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশে প্রবেশ করল যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা। এই সপ্তাহে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস গর্বের সঙ্গে জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রায় ৫৮ হাজার মেট্রিক টন হলুদ ভুট্টা আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ভুট্টাগুলো উৎপাদিত হয়েছে মিনেসোটা ও ডাকোটা অঞ্চলে, ২০২৫–২৬ ফসল বছরে।
মার্কিন দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আমদানি বাংলাদেশের ফিড ও লাইভস্টক সেক্টরের জন্য ‘নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের পুষ্টি’ নিশ্চিত করবে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়—
এই ভুট্টার দাম কত?
আর সেই দাম শেষ পর্যন্ত দিচ্ছে কে?
সস্তা বিকল্প থাকা সত্ত্বেও আমেরিকা কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ভুট্টার একাধিক সস্তা উৎস বিদ্যমান। দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম দামে ভুট্টা রপ্তানি করছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আবার যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে—যা নিছক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মূল্য?
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, Muhammad Yunus–এর নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ থাকতেই হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। আর সেই ঘনিষ্ঠতার প্রতিদান দিতেই কি বেশি দামে মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি?
ভুট্টা হোক বা গম—বাজারে বিকল্প থাকা সত্ত্বেও বারবার যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের দিকেই ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে আমেরিকার কৃষি রপ্তানিকারকরা, আর চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর।
শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি কার?
পশুখাদ্যের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে—
ডিম
দুধ
মাংস
এবং সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের দামে
অর্থাৎ, এই আমদানির বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের কাঁধে।
পররাষ্ট্রনীতি বনাম জনজীবন
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি এখানেই। পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য আর কূটনৈতিক সম্পর্কের গল্প শোনানো হলেও, তার বিল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ুক বা জীবনযাত্রা কঠিন হোক—সেটা যেন নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।
এই আমদানিতে সত্যিই লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশ, নাকি শুধু শক্তিধর মিত্ররাই?