ইরান যুদ্ধের ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী চরম ঝুঁকিতে

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যতই অস্থির হচ্ছে, ততই শঙ্কা বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে।

উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন দেশে শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। যুদ্ধের সম্ভাবনা বা আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হলে তাদের জীবন ও জীবিকা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং ওমান-এ বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নির্মাণ, তেল-গ্যাস, পরিবহন ও সেবা খাতে কাজ করেন। তাদের অনেকেই প্রতিদিন খোলা মাঠে, নির্মাণ সাইটে বা দূরবর্তী মরু অঞ্চলে কাজ করেন—যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সীমিত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া তাদের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং এর সঙ্গে ইসরায়েলসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি যদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

অতীতে দেখা গেছে, যুদ্ধ বা বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে প্রথম ধাক্কা আসে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর—চাকরি হারানো, বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়া, এমনকি নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট তৈরি হওয়া।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তাদের নিরাপত্তা শুধু মানবিক ইস্যু নয়, জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা, দূতাবাসগুলোর জরুরি সহায়তা সেল সক্রিয় রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) প্রস্তুতি রাখা।

একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদেরও সচেতন থাকতে হবে দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে চলা, জরুরি যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করা জরুরি।

যুদ্ধ কখনোই কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ যাদের জীবনের একমাত্র ভরসা তাদের পরিশ্রম। তাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ছায়ায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর নিরাপত্তা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে উঠেছে।