থিয়েটার অনুদান নিয়ে নয় ছয় ফারুকী’র,

লেখক: সুমন মাহমুদ,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: অস্তিত্বহীন বা নামসর্বস্ব থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অনুদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সংস্কৃতি মঞ্জুরি খাত থেকে চারু শিল্প ও থিয়েটার কার্যক্রমের জন্য সারা দেশের তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ১৭টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

ঠিকানায় গিয়ে মিলছে না প্রতিষ্ঠান

গণমাধ্যমটির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকার ওই ১৭ প্রতিষ্ঠানের অন্তত সাতটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা ঠিকানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম বা সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি।

মিরপুরের বড়বাগ এলাকার একটি ঠিকানায় ‘শিখা নাট্যগোষ্ঠী’ নামে অনুদান দেওয়া হলেও স্থানীয়রা জানান, সেখানে ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। একইভাবে সেনপাড়ায় ‘স্বর্ণধিতি’ নামের প্রতিষ্ঠানের কথাও অস্বীকার করেছেন ভবন মালিক।

বন্ধ বা পরিত্যক্ত ঠিকানা

রূপনগরের একটি স্কুলের ঠিকানায় ‘সঞ্চুরি সাংস্কৃতিক শিক্ষালয়’ নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর আগেই কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। শাহবাগের শেখ কামাল টেনিস কমপ্লেক্সে ‘সড়কল্পন’ নামের প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা থাকলেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তালা ঝুলছে।

আরও কয়েকটি ঠিকানায় একই অবস্থা

গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের একটি ঠিকানায় ‘বাংলাদেশ সংস্কৃতি পরিষদ’-এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বনশ্রীতে ‘সুরতাল শিল্পগোষ্ঠী’ এবং পুরান ঢাকার ওয়ারিতে ‘বাংলাদেশ লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র’ নামের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকরা।

যোগাযোগের চেষ্টা, মেলেনি সাড়া

এ বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যম থেকে সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষোভ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে

এ ঘটনায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিয়মিত নাট্যচর্চা করা সক্রিয় দলগুলো যেখানে সরকারি অনুদান পেতে হিমশিম খায়, সেখানে নামসর্বস্ব বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান কীভাবে বরাদ্দ পেল তা খতিয়ে দেখা দরকার।