ব্যাংক ও নিয়োগ বিতর্কে সাকির ক্ষমতা কমানো

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি–র কাছ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, দায়িত্ব পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আর্থিক খাতের কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)দের ফোন করে বা সরাসরি ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা চাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক–এর শীর্ষ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রেক্ষাপটে ডেপুটি গভর্নর পদে নিজের ঘনিষ্ঠ একজনকে বসানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে।

একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে পুনরায় দায়িত্বে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সাকির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। এমনকি নির্বাচনী ব্যয়ের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথাও এলাকাভিত্তিক আলোচনায় উঠে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ নিয়ে অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। এরপরই জুনায়েদ সাকির কাছ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাত এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসা আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।