নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা ও গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তা আর কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক কৌশল, আন্তর্জাতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা। এই প্রেক্ষাপটেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাব্য বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত বিভিন্ন তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে একটি নীরব সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে—এমন ধারণা ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবু এই আলোচনা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে প্রকাশ্য ভারত-বিরোধী অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বার্তা ও কূটনৈতিক ভাষ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলটি হয়তো সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আরও বাস্তববাদী ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত যে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি, এবং বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ সরকার ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক উপেক্ষা করে স্থিতিশীল থাকতে পারবে—এই ধারণা এখন অনেকের কাছেই অবাস্তব।
এই বাস্তবতার আলোকে বিএনপির সম্ভাব্য নীতিগত পুনর্বিন্যাসকে অনেক বিশ্লেষক রাজনৈতিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, পাকিস্তানমুখী রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বার্তা যদি সত্যিই কৌশলগতভাবে দেওয়া হয়ে থাকে তা ভারতের কাছে একটি স্পষ্ট আস্থার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বাংলাদেশের আঞ্চলিক কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
একই সঙ্গে এই পরিবর্তিত সমীকরণে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। একসময় কট্টর ভারত-বিরোধী বয়ানে সক্রিয় থাকলেও, বর্তমানে দলটি ভারতের সমর্থন বা অন্তত প্রকাশ্য বিরোধিতা এড়িয়ে চলার কৌশলে মনোযোগী এমন ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। জঙ্গিবাদ ও সহিংস রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের বার্তা যদি বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়, তবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা যে চলবে, তা রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়।
তবে এই পুনর্গঠনের সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে মৌলবাদী ও উগ্র ইসলামী শক্তিগুলোর মধ্যে। বিএনপির সম্ভাব্য ভারতঘেঁষা অবস্থানকে তারা আদর্শিক বিচ্যুতি বা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য করে “ভুয়া, ভুয়া” স্লোগান ওঠার ঘটনাগুলো এই গভীর মতাদর্শিক বিভাজনেরই প্রকাশ।