ভোট চুরির প্রমাণ বন্ধ করতেই ৪০০ গজে মোবাইল নিষিদ্ধ

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ২ দিন আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক নির্দেশ নয় এটি একটি সুপরিকল্পিত, মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য ভোট চুরির সম্ভাব্য প্রমাণ সৃষ্টি ও প্রকাশের পথ বন্ধ করা। এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, হঠকারী এবং গভীরভাবে সন্দেহজনক যা গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার, নাগরিক নিরাপত্তা ও স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ কার্যত ভোটারদের নিরস্ত করা। ভোটকেন্দ্রে যদি অনিয়ম, ভয়ভীতি, কেন্দ্র দখল বা জালিয়াতি ঘটে, তাহলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা কিংবা বাইরের দুনিয়াকে জানানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মোবাইল ক্যামেরা যেখানে নাগরিকের হাতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর প্রমাণ তৈরির মাধ্যম, সেখানে সেটি নিষিদ্ধ করা মানে মোজো সাংবাদিকতা ও সিটিজেন জার্নালিজমকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা। এটি কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে না বরং তার ঠিক উল্টোটি করে।

নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে মোবাইল নিষিদ্ধ করা বাস্তবে ভোটারদের আরও অনিরাপদ করে তোলে। কোনো বিপদ ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে কল করা, সহায়তা চাওয়া বা ঘটনা জানানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটারদের জন্য মোবাইল একটি ন্যূনতম নিরাপত্তা উপকরণ। মোবাইল ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেতে অনেকে ভয় পাবে ফলে ভোটদান থেকে বিরত থাকবে। এটি সরাসরি ভোটার উপস্থিতি কমানোর কৌশল বলেই প্রতীয়মান হয়।

সিসি ক্যামেরার দোহাই দিয়ে মোবাইল নিষিদ্ধ করার যুক্তি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত, অপ্রকাশ্য এবং কর্তৃপক্ষনির্ভর। সেখানে নাগরিকের কোনো তাৎক্ষণিক প্রবেশাধিকার বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

বিপরীতে, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তাৎক্ষণিক ভিডিও ধারণ, লাইভ ডকুমেন্টেশন এবং জনসম্মুখে প্রমাণ উপস্থাপনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

ইতিহাস বলছে ভোট কারচুপির বহু ঘটনা সামনে এসেছে কেবল নাগরিকের মোবাইল ভিডিওর কারণেই। সেই অভিজ্ঞতাই কি আজ ভয় হয়ে দাঁড়িয়েছে?
এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সদিচ্ছা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

যুক্তিসংগত ও বিশ্বাসযোগ্য কারণ ছাড়া এমন একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা কেবল একটি উদ্দেশ্যের দিকেই ইঙ্গিত করে—ভোট চুরির পথ সুগম করা এবং তার প্রমাণ তৈরির সুযোগ আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া।

অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায়, ৪০০ গজের এই মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ইতিহাসে একটি পরিকল্পিত, ভয়ভিত্তিক এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের স্পষ্ট আলামত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।