সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিবৃতি:

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএফই) বিভাগের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হাহা’ রিয়েক্ট ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তলব করার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বহু পদপ্রত্যাশী ও দীর্ঘদিন পরিশ্রমী শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ বা জ্যেষ্ঠতার নীতি অনুসরণ না করার অভিযোগ থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা পোস্টে ‘হাহা’ রিয়েক্ট ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। ধারণা করা যায়, মূলত পদপ্রত্যাশী ও তাদের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই এই প্রতিক্রিয়া এসেছে।

আমরা মনে করি, যদি কোনো শিক্ষার্থী কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে থাকে তবে সেটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু সমষ্টিগতভাবে শিক্ষার্থীদের ডেকে চাপ সৃষ্টি করা একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে, যা মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২)(ক) উপ-অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই আলোকে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক, শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক মতামত প্রদান সাংবিধানিক অধিকারভুক্ত। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মত প্রকাশকে অসদাচরণ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের তলব করা বিশ্ববিদ্যালয়ের একতরফা নীতিমালার বহিঃপ্রকাশ এবং এটি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক বাকস্বাধীনতা হরণের শামিল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোর দাবি—

১। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গৃহীত তলব প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
২। ক্লাব কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩। মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সুস্পষ্ট ও ন্যায়সংগত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গণতান্ত্রিক ও সুস্থ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে প্রশাসনকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও সংলাপনির্ভর পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

মাহিদুল ইসলাম অদি
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়