দিনপত্র ডেস্ক :: মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে সন্তান হারানো উসাইমং মারমার মামলার আবেদন এবং পরবর্তীতে তাকে ডিবি দিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বর্তমান সরকারের সমঝোতার রাজনীতি এবং বিভিন্ন সংস্থার পর্দার অন্তরালের ভূমিকা।
মামলার আবেদন ও আইনি বাধা
নিহত শিশুর পিতা উসাইমং মারমা সম্প্রতি বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং বিমান বাহিনী প্রধানসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমঝোতার মারপ্যাঁচে এই মামলা গ্রহণ না করা ছিল অনুমেয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি নির্দিষ্ট সমঝোতার ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকা পক্ষটি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না, যার প্রতিফলন দেখা গেছে আদালতের মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতির মাধ্যমে।
উসাইমং মারমাকে হেনস্তার অভিযোগ
মামলার আবেদন করার পর থেকেই উসাইমং মারমাকে নানামুখী চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নেপথ্যের কুশীলবদের ইশারায় তাকে ডিবি পুলিশ দিয়ে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে উসাইমং মারমা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেছেন, যা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। চিঠিতে তিনি তার অসহায়ত্ব এবং বিচার পাওয়ার পথে অন্তরায়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রোপাগান্ডা ও পাল্টা অভিযোগ
সম্প্রতি কিছু মহলের পক্ষ থেকে উসাইমং মারমাকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘কুকি-চিন’-এর সদস্য হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চলছে। একইসাথে বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার বিষয়ে ওঠা বিতর্ককেও গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ।
সচেতন মহলের দাবি, মাইলস্টোন ট্রাজেডির পেছনের প্রকৃত রহস্য ধামাচাপা দিতেই এই ‘ট্যাগিং পলিটিক্স’ বা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জুলাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং তাদের বর্তমান তৎপরতা এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও জনমনে প্রশ্ন
মাইলস্টোন ট্রাজেডিকে একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন অনেকে। যখনই এই ঘটনা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তখনই বাধা সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন।
এখন দেখার বিষয়, উসাইমং মারমার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে উত্তরণে সাধারণ মানুষ কতটা সোচ্চার হয়,