প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া এসএসসি পাস, ঢাবির ছাত্র ছিলেন না

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিচয় নিয়ে এমন কিছু দাবি করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়াকে নিয়ে সম্প্রতি প্রচার করা হচ্ছে যে তিনি নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্র ছিলেন। অথচ বাস্তবতা হলো, তিনি কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই ছিলেন না। একজন ব্যক্তি যে প্রতিষ্ঠানে কখনো ভর্তি হননি, তাকে সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হিসেবে প্রচার করা নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ এবং বিভ্রান্তিকর।

এ ধরনের মিথ্যাচার শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নয়, বরং সাধারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভূতিকেও অবমূল্যায়ন করে। জনগণ এখন অনেক সচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষ সহজেই তথ্য যাচাই করতে পারে। তাই বাস্তবতার সঙ্গে মিল না থাকা কোনো প্রচারণা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না।

এছাড়া তাঁর পারিবারিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া অষ্টম শ্রেণি পাস ছিলেন এবং তাঁর বাবা আইএ পাস ছিলেন এ বিষয়গুলো বহু আগে থেকেই পরিচিত তথ্য।

কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় এসব তথ্য ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।

অন্যদিকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। তাই এই পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সত্য ও বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের সময় তারেক জিয়া ও তাঁর মা তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

ফলে তাঁকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করাকে অনেকে ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা হিসেবে মনে করেন।

রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। কারণ মিথ্যাচার ও অতিরঞ্জন শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।