আলী রিয়াজের ফর্মুলায় এই দেশ চলবে না,

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার আলোচনায় আলী রিয়াজ একটি পরিচিত নাম। গণতন্ত্র, নির্বাচনব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার ও সুশাসন নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ একাডেমিক পরিসরে গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর জটিল, সংযুক্ত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশকে কোনো একক তাত্ত্বিক “ফর্মুলা” দিয়ে চালানোর ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আজকের বাংলাদেশ কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের দেশ নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অংশ, প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্মের দেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক রূপান্তরের দেশ। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে নতুন করে গণপরিষদ গঠনের দাবি একটি উচ্চঝুঁকির রাজনৈতিক প্রস্তাব। সংবিধান পরিবর্তন কোনো সেমিনার কক্ষের সিদ্ধান্ত নয়; এটি জাতীয় স্থিতি, অর্থনৈতিক আস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই একটি সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সময়ের প্রয়োজনে একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে। কোনো কাঠামোতেই ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুরো ভিত্তি ভেঙে নতুন করে শুরু করতে হবে। বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি জোরদার করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।
গণপরিষদের প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে রোমাঞ্চকর শোনাতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি নতুন বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন, ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র—এসব ইস্যুতে নতুন করে সংঘাত উসকে দেওয়া উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিলাসিতা। যখন বিশ্ব অর্থনীতি অনিশ্চিত, জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তব হুমকি, এবং তরুণদের কর্মসংস্থান বড় চ্যালেঞ্জ—তখন সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি করা সময়োপযোগী নয়।
সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। বুদ্ধিজীবীদের মতামত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। কিন্তু সমালোচনা আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ডাক এক জিনিস নয়। সংস্কার দরকার হলে তা হতে হবে সাংবিধানিক ধারার ভেতরে, সংসদীয় প্রক্রিয়ায়, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তির তাত্ত্বিক রূপরেখায় নির্ধারিত হবে না। এটি নির্ধারিত হবে জনগণের অংশগ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা এবং বাস্তববাদী নীতির মাধ্যমে। দেশ চলবে জাতীয় ঐকমত্যে কোনো একক ফর্মুলায় নয়।