বাংলাদেশে ‘রেজিম চেঞ্জ’: সমকাল ও বিটনিকসহ তিন প্রতিষ্ঠানের হাতে আমেরিকার ২৯ মিলিয়ন ডলার?

লেখক: চন্দন নন্দি
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ অভিযানে মার্কিন অর্থায়নের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দিনপত্র নিউজ’-এর দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা USAID-এর ২৯.৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ খরচ করা হয়েছে ঢাকার একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, একটি মার্কেটিং কমিউনিকেশন ফার্ম এবং একটি এনজিওর পেছনে।
​নথিপত্রে যা পাওয়া গেছে
​দিনপত্র নিউজের হাতে আসা নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (SPL)’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল। মূলত এই বর্ধিত সময়ের মধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
​তহবিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: * ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ছিল মাত্র ১.৮ মিলিয়ন ডলার।
​২০২৫ সাল নাগাদ এই বাজেট ১৫৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৯.৯ মিলিয়ন ডলারে।
​অর্থ সহায়তাপ্রাপ্ত তিন প্রতিষ্ঠান
​তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি অংশ সরাসরি তিনটি ঢাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে গেছে:
১. সমকাল: (শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা)
২. বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশন লিমিটেড: (একটি বিপণন ও যোগাযোগ সংস্থা)
৩. দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট: (যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত একটি এনজিও)
​ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য এবং ইউনূস সংযোগ
​সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে এই ২৯ মিলিয়ন ডলারের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, এই অর্থ বাংলাদেশে কট্টর বামপন্থী ও কমিউনিষ্টদের ক্ষমতায় বসাতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
​নথিপত্রে আরও দেখা যায়, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৩ সালের ৭ মার্চ গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল তাকে ভবিষ্যতের ‘অন্তর্বর্তীকালীন মুখ’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
​ছায়াযুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ
​প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার সাথে গোপন যোগাযোগ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তারা শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন।
​সরকারের অবস্থান
​২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন যে, কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই। তবে নর্থইস্ট নিউজের দাবি, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (IRI) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI)-এর মাধ্যমে এই অর্থ ধাপে ধাপে বিতরণ করা হয়েছে।
​২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বার্ষিক অর্থ বিতরণের চিত্র (মিলিয়ন ডলারে):
​২০২৪: ৩.৬৪
​২০২৩: ৩.৭০
​২০২২: ৩.২৪
​২০২১: ২.৯৫
​২০২০: ৩.৩৭
​এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।