করোনাকালের ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বনাম বর্তমানের হাম মহামারি: কোথায় সেই ‘দেশপ্রেমিক’ সমালোচকরা?

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: করোনা মহামারির সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা কি দেশবাসী ভুলে গেছে? যখন প্রতিদিন দুপুরে টিভির পর্দার সামনে মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার জন্য। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IEDCR) তৎকালীন পরিচালক হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য বুলেটিন নিয়ে হাজির হতেন। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব তিনি তুলে ধরতেন জাতির সামনে।
​২১ দিনের শাড়ি বনাম বর্তমানের নীরবতা
​তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যের এই অবাধ প্রবাহে কোনো খামতি না থাকলেও, একদল তথাকথিত ‘দেশপ্রেমিক’ সমালোচক ব্যস্ত ছিল ডা. ফ্লোরার ব্যক্তিগত পোশাক নিয়ে। তাদের দাবি ছিল— “তিনি ২১ দিনে ২১টি ভিন্ন রঙের শাড়ি পরেছেন, সুতরাং তিনি দুর্নীতিবাজ!” অথচ আজ যখন দেশ এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সেই সমালোচকদের কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
​হামের মহামারি: তথ্য গোপনের অভিযোগ
​বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিএনপি সরকারের সরকারি দাবি মতে এখন পর্যন্ত ২০০-এর অধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তবে বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য বলছে, এই সংখ্যা আসলে ১০০০-এর আশেপাশে। অভিযোগ উঠছে, বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকৃত তথ্য গোপন করছে। করোনাকালে যেখানে প্রতিদিন ব্রিফিং হতো, এখন এক ভয়াবহ মহামারি চললেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিয়মিত ব্রিফিং বা দিকনির্দেশনা নেই।
​জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সংকটে নাজেহাল জনজীবন
​দেশের জ্বালানি তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। কৃষকরা পাম্পে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে হাহাকার করছেন, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে গণপরিবহনের চালকরা ৮-১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। অথচ সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দাবি করছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ আছে। যদি মজুদ থেকেই থাকে, তবে:
​কেন জনগণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে?
​কেন দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বন্ধ রাখা হয়েছে?
​অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে এখন গুদামজাত করা তেল চড়া দামে বিক্রি করার পাঁয়তারা চলছে, যাতে সরাসরি সরকারের নীতিনির্ধারক ও দলীয় নেতাকর্মীরা জড়িত।
​নিরোর বাঁশি ও জনগণের হারিকেন
​দেশ যখন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে হারিকেন আর হাতপাখার যুগে ফিরে যাচ্ছে, তখন নীতিনির্ধারকদের আচার-আচরণ যেন রোম পোড়ার সময় সম্রাট নিরোর বাঁশি বাজানোর কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ যখন তেলের লাইনে আর অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে, তখন প্রভাবশালীদের প্রমোদভ্রমণ ও বিলাসিতায় কোনো কমতি নেই।
​শেখ হাসিনার আমল ও বর্তমানের পার্থক্য
​রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে যেকোনো সংকটে তথ্য লুকানোর প্রবণতা ছিল না। তিনি নিজে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিস্থিতি জাতির সামনে স্পষ্ট করতেন।
​আজ ডা. সেব্রিনা ফ্লোরাও নেই, সেই তথাকথিত শাড়ি-সমালোচক দেশপ্রেমিকদেরও কোনো উচ্চবাচ্য নেই। জনগণের প্রশ্ন—তথ্য গোপন আর অব্যবস্থাপনার এই দায়ভার নেবে কে?