নিউজ ডেস্ক
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন কারাগারে বন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। বয়স ছিল ৮৩ বছর। এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার ফল।
২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই রমেশ চন্দ্র সেন নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। বয়স, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি কার্যত চিকিৎসাবঞ্চিত ছিলেন। একজন প্রবীণ নাগরিক ও সাবেক মন্ত্রী হয়েও ন্যূনতম মানবিক চিকিৎসা তাঁর কপালে জোটেনি।
এর মধ্যেই ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ একটি ভুয়া মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই মামলার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। চলতি বছরের শুরু থেকে তিনি কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
কারাগারে তাঁকে রাখা হয় অমানবিক পরিবেশে। জানা গেছে, প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও তাঁকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। বয়স ও অসুস্থ শরীর নিয়ে এই নির্দয় আচরণ তাঁকে আরও গুরুতর অসুস্থ করে তোলে। অথচ গত দেড় থেকে দুই মাসে একের পর এক জামিন আবেদন করা হলেও তা নির্বিকারভাবে নাকচ করে দেওয়া হয়।
চিকিৎসা ছিল না। সহানুভূতি ছিল না। মানবিকতার কোনো চিহ্ন ছিল না।
শেষ পর্যন্ত আজ সকালে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসার অভাবেই একজন প্রবীণ রাজনীতিকের জীবন থেমে গেল।
প্রশ্ন উঠছে, একজন গুরুতর অসুস্থ, ৮৩ বছর বয়সী মানুষকে কেন বারবার জামিন থেকে বঞ্চিত করা হলো? কেন তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়া হলো না? কেন তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে আটকে রাখা হলো, যেখানে মৃত্যু ছিল অনিবার্য?
এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।
এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের নির্মম পরিণতি।
এই মৃত্যু শুধু রমেশ চন্দ্র সেনের নয়। এটি দেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকারের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।