দিনপত্র ডেস্ক :: বগুড়ার উপনির্বাচনে ধানের শীষে সিল মারা ব্যালট হাতেনাতে ধরার ঘটনা ঘটেছে, দিন ভর ভোটকেন্দ্র গুলো ফাঁকা দেখা গেছে অথচ দিন শেষে ভোট বাক্স ভরার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভোটার বিহীন নির্বাচন নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন। ভোট শূন্য সেন্টারগুলোতে প্রকাশ্যে জাল ভোট দেওয়া নিয়ে অভিযোগ নতুন নয় বরং অনেকের মতে, এটি ধীরে ধীরে এক ধরনের “সংস্কৃতি” হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটকেন্দ্রে অবাধে ব্যালটে সিল মারা হয়, তখন সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণ ও মতামতের কোনো মূল্য থাকে না। ফলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ভোটই হচ্ছে ক্ষমতার উৎস। কিন্তু যদি সেই ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত, নিয়ন্ত্রিত বা জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল আর জনগণের প্রকৃত ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে না। এতে করে যে ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন, তিনি প্রকৃতপক্ষে জনগণের প্রতিনিধি নন বরং একটি বিকৃত প্রক্রিয়ার ফল হয়ে দাঁড়ান।
অবৈধ ইউনুস সরকারের আমলে এই চিত্র আরও প্রকট হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। যারা একটি সাধারণ মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, তারাই বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে দেশের আইন প্রণেতা হয়ে যাচ্ছে যা রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এতে নেতৃত্বের মান যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াও দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলস্বরূপ, দেশ ধীরে ধীরে একটি অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই ধরনের অনিয়ম শুধু একটি নির্বাচনের ক্ষতি করে না বরং দীর্ঘমেয়াদে জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করে। মানুষ ভোট দিতে আগ্রহ হারায়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে যায় এবং রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস কমে যায়। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা যদি এসব অনিয়ম তুলে ধরে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করে, তবে পরিবর্তনের পথ সুগম হতে পারে।
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব, এবং সেটিই ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।