অনলাইন ডেস্ক •
দেশের শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকার তীব্র সংকট এবং উদ্ভূত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের বিদায়ী প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে চলমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সতর্কবার্তার পরও উদাসীনতার অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের টিকার ঘাটতিজনিত ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে এক-আধবার নয়, বরং পাঁচ থেকে ছয়বার লিখিতভাবে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। রানা ফ্লাওয়ার্সের বরাত দিয়ে বলা হয়, “কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।”
এতবার লিখিতভাবে সতর্ক করার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশের সচেতন নাগরিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আমানত রক্ষা করা যেখানে প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব, সেখানে এই চরম উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবমাননার প্রশ্ন
আলোচনায় বলা হচ্ছে, জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একপাশে সরিয়ে রেখে প্রশাসন ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। মুসলিম প্রধান এই দেশের তৌহিদী জনশক্তির ধর্মীয় অনুভূতি, নৈতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত এবং পশ্চিমা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নীতি নির্ধারণের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী। পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমানত রক্ষা এবং ইনসাফ কায়েম করা শাসকদের অপরিহার্য দায়িত্ব হলেও বর্তমান ক্ষেত্রে তার স্পষ্ট লঙ্ঘন দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার আহ্বান
টিকার এই তীব্র সংকটের কারণে দেশের নিষ্পাপ শিশুরা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই গাফিলতি ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিজেদের ঈমান, দেশ এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখন থেকেই সবাইকে আরও বেশি সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।