দিনপত্র ডেস্ক রিপোর্ট::
বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলোর ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ আফগানিস্তান। একসময় সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে তালেবানদের উত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই তালেবানরাই পরবর্তীতে আমেরিকার জন্য হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি। অবশেষে দুই দশকের যুদ্ধ, হাজার হাজার প্রাণহানি এবং ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র—পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিহাস শুধু আফগানিস্তানের জন্য নয়, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও বড় সতর্কবার্তা। কারণ আদর্শিকভাবে কট্টর, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী কোনো শক্তিকে ক্ষমতার পথে প্রশ্রয় দিলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জামাতের রাজনৈতিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কেবল নির্বাচনী রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতাও এতে রয়েছে।
একজন রাজনৈতিক গবেষক বলেন,
“আমেরিকা ভেবেছিল তালেবানরা কেবল একটি সাময়িক কৌশলগত হাতিয়ার। বাস্তবে তারা হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর বাস্তবতা। বাংলাদেশে যদি জামাতের মতো শক্তিকে একইভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য মিত্র’ হিসেবে দেখা হয়, ভবিষ্যতে তার খেসারত পুরো জাতিকে দিতে হতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জামাতের অতীত ভূমিকা, যুদ্ধাপরাধের ইতিহাস, নারী ও সংখ্যালঘু বিষয়ে অবস্থান—সবকিছু বিবেচনায় না নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটা মানেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়া।
তাদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা—
গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে শক্তিশালী করা হলে, শেষ পর্যন্ত সেই শক্তিই গণতন্ত্রকে গ্রাস করে। আফগানিস্তান তার প্রমাণ।
এখন প্রশ্ন একটাই—
বাংলাদেশ কি আমেরিকার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেবে, নাকি আবারও ইতিহাসের একই ফাঁদে পা দেবে?